ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির পরও খুচরা বাজারে কমছে না পেঁয়াজের দাম। এখনও কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
দাম না কমায় একে অপরকে দুষছেন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা এবং আড়তদাররা।
গত কয়েক মাস ধরেই অস্থির দেশের পেঁয়াজের বাজার। এতে নাজেহাল ভোক্তারা।
বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি মাসের ৫ জুন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। তবে এরপরও কমছে না পেঁয়াজের দাম।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
আর পাইকারিতে প্রতি ৫ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম হয় ৬৪ টাকা।
অথচ আড়ত পর্যায়ে একই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।
পেঁয়াজের দামের এই পরিস্থিতিতে একে অপরকে দুষছেন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা এবং আড়তদাররা।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। পাইকারিতে কেজি প্রতি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭২ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা পর্যন্ত।
খালেক নামে এক খুচরা বিক্রেতা জানান, মূলত অসাধু আড়তদারদের কারণে পেঁয়াজের দাম কমছে না।
তারা ইচ্ছে করে দেশি পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছে না। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ ঠিকই কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারিতে প্রতি ৫ কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে ৩২০ টাকায়।
আর প্রতি ৫ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। বাজারে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই।
আর আড়তদাররা বলেন, বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। প্রতিদিন ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পেঁয়াজ আসছে।
আড়তগুলোতে পেঁয়াজের দাম কম থাকলেও পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাড়ছে দাম।
বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন,
খুচরা বাজারে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করলেই কমবে পেঁয়াজের দাম।
এদিকে পেঁয়াজের দামের এ অবস্থায় দিশেহারা ভোক্তারা। তাদের দাবি, দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করে দাম নিয়ন্ত্রণের।
রিপন ব্যাপারী নামে এক ক্রেতা জানান, সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়ার পরও কেন দাম কমছে না; সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।
এর আগে রোববার (৪ জুন) সরকার ৫ জুন থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়ার কথা জানায়।
বেশ কিছুদিন ধরেই দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির। পেঁয়াজ উৎপাদন করে কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়,
সেজন্য কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় গত ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম।

Comments are closed.