পহেলা বৈশাখ আর ঈদ সামনে রেখে ঝালকাঠিতে শীতল পাটি তৈরির ধুম পড়েছে।
চট্টগ্রাম আর ঢাকার ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে এ পাটি যাবে বিদেশেও।
তবে কারিগরদের দাবি, পাটির দাম ভালো হলেও, ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত তারা।
সামনেই পহেলা বৈশাখ, সঙ্গে আছে ঈদ আনন্দ। তাই ঝালকাঠির বিভিন্ন উপজেলায় নিপূণ হাতের ছোঁয়ায় চলছে শীতল পাটির বুনন।
একটি শীতলপাটি তৈরিতে সময় লাগছে ৩ থেকে ৭ দিন।
‘পাইত্রা’ নামের এক ধরনের গুল্ম জাতীয় গাছ থেকে পাইত্রা সংগ্রহ, বেতি তৈরি,
রোদে শুকানো আর পানিতে ভিজিয়ে নানা প্রক্রিয়ায় ঝালকাঠির কারিগররা শীতল পাটি তৈরি করেন।
জেলার রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি, সাংগর, নলছিটির মোল্লারহাট, কামদেবপুর, গোপালপুর এবং
জেলা সদরের কাঁশারিপট্টি, বাঁশপট্টি ও রামনগরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে এখন দিনরাত চলছে পাটি বুবনের কাজ।
এর কারিগররা জানান, বছরের এই সময় তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।
ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ আর বৈশাখী মেলা উপলক্ষে প্রতি বছরই বাড়ে পাটির অর্ডার।
এক কারিগর বলেন, বৈশাখী মেলায় আমাদের পাটির চাহিদা বেশি থাকে।
আমাদের কাছ থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান।
পরে তা মেলায় মেলায় বিক্রি করেন।
তবে বিক্রি হওয়া পাটির দাম ভালো হলেও ন্যায্য মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।
এক কারিগর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাইকারি ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে প্রতি পাটি এক হাজার টাকা দরে কিনে নিয়ে যায়।
কিন্তু তারা সেটি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করেন।
কাজেই আমরা আমাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাচ্ছি না।’
এদিকে জেলার ব্র্যান্ড এই পাটির সঙ্গে জড়িত কারিগরের ভাগ্য বদলে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা।
ঝালকাঠির শীতল পাটি যুব ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বাবুল দত্ত বলেন,
বিদেশে আমাদের যেসব পণ্য রফতানি হচ্ছে সেগুলো আমাদের মাধ্যমে নয়, তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে হচ্ছে।
আমরা চাচ্ছি, আমাদের এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমেই যেন আমাদের পণ্য রফতানি করা হয়।
ফলে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উন্নতি করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠির ১০টি গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার শীতল পাটি তৈরির কাজে জড়িত।

Comments are closed.