দেশে কৃষিখাতে ব্যবহারের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে কাতার, সৌদি আরব ও মরক্কো থেকে এক লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪০ হাজার টন ডিএপি, ৩০ হাজার টন টিএসপি এবং ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার রয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৫৮২ কোটি ২৪ লাখ ১২ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সার কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর সঙ্গে চুক্তির আওতায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব নিয়ে আসে কৃষি মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদ প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছে। প্রতি টন টিএসপির মূল্য ধরা হয়েছে ৪৪০ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে ১৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বিএডিসি ও মরক্কোর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় প্রথম লটে ৪০ হাজার (+১০%) মেট্রিক টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩৭৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ডিএপি সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭.৮৫ লাখ মেট্রিক টন।
কানাডার সঙ্গে চুক্তির আওতায় তৃতীয় লটে ৪০ হাজার (+১০%) মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি) সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১৭২ কোটি ৭৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১২তম (ঐচ্ছিক দ্বিতীয়) লটে আরো ৩০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১২৯ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমওপি সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১.৫০ লাখ মেট্রিক টন। বিএডিসির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এ চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মরক্কো থেকে প্রথম লটে ৩০ হাজার (+১০%) মেট্রিক টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২১১ কোটি ৮১ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিএসপি সারের চাহিদা ধরা হয়েছে ৯.৫০ লাখ মেট্রিক টন, যার একটি বড় অংশ বিএডিসি ও বেসরকারি পর্যায়ের আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে।
এই চারটি আমদানি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

One Reply to “২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন সার কিনবে সরকার”
Comments are closed.