গত বছর আড়াই বিঘা জমিতে আবাদ করে ৩২ মণ পাট পেয়েছিলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় ভোজগাতী গ্রামের কৃষক শেখ রাসেল উদ্দীন। সেই পাট তিনি মজুত রেখেছিলেন। মৌসুম শেষে ৩ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলেন। এবারও তিনি আড়াই বিঘায় পাট চাষ করেছেন। এতে তাঁর প্রায় ৪২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে পাটকাঠি বিক্রি করেই ৩৭ হাজার টাকা পেয়ে গেছেন। পাটের ফলন হয়েছে ৩১ মণ, যা মৌসুমের শেষে বিক্রি করতে চান।
বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাতে এখনই পাট বিক্রি করলে লাখ টাকা আয় হবে তাঁর।
গত তিন বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, যশোরে গত বছর পাটের আবাদ কিছুটা কমেছিল। এবার আবার আবাদ বেড়েছে। গত ২০২৩ মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৪ হাজার হেক্টর জমি। সেবার পাটের আবাদ হয়েছিল ২৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। ২০২৪ মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫ হাজার হেক্টর জমি। কিন্তু আবাদ হয়েছিল ২৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। চলতি ২০২৫ মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমি। তবে আবাদ হয়েছে ২৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে। এবার যশোর সদর উপজেলায় ১ হাজার ৭২০ হেক্টর, শার্শা উপজেলায় ৪ হাজার ৯৬০ হেক্টর, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৩ হাজার ৪৪০ হেক্টর, চৌগাছা উপজেলায় ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর, অভয়নগর উপজেলায় ২৫ হেক্টর, বাঘারপাড়া উপজেলায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর, মনিরামপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৮৫৫ হেক্টর এবং কেশবপুর উপজেলায় ৬ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, পাটের ফলন ভালো হয়েছে। এবার বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় চাষিদের পাট জাগ দেওয়া সহজ হয়েছে। এতে পাটের গুণগত মান খুব ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে পাটের দামও ভালো। পাটকাঠিও ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। পাট চাষে কৃষক লাভবান হচ্ছেন।

One Reply to “যশোরের কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাল পাট”
Comments are closed.