শেয়ার বাজারে সূচকের বড় উত্থান, লেনদেন ছাড়ালো ১১০০ কোটি টাকা

দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল রবিবার মূল্যসূচকের বড় উত্থানে লেনদেন হয়েছে। এদিন এই বাজারে লেনদেন ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন। অপরবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গত কিছুদিন ধরে দেশের শেয়ার বাজারে ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। বাজারে গতি ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পালটা শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এতেও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সবমিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে বাজারমুখী হচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়ার মধ্যে নিয়ে লেনদেন শুরু হয়। দিনশেষে এই বাজারে লেনদেনকৃত মোট ৩৯৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২১৮টির, কমেছে ১২২টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮টির দর। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে ও বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

প্রায় এক মাস ধরে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। এই সময়ে ভালো মৌল ভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম অবমূল্যায়িত অবস্থায় ছিল। এখন ভালো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়তে থাকায় সূচকও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি লেনদেনও হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এটিকে বাজারের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, ভালো কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে লেনদেন এবং সূচক বাড়লে তাতে সেটি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আবার ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঝুঁকিও কমে আসে।

শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ রোববার সূচকের বড় উত্থানের পেছনে যে ১০টি কোম্পানির সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল, সেগুলো হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বিএসআরএম লিমিটেড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), লাফার্জহোলসিম, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, অলিম্পিক ইন্ড্রাস্টিজ ও গ্রামীণফোন। এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে আজ ডিএসইএক্স সূচকটি ৫২ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতেই ডিএসইএক্স সূচকটি বেড়েছে ১৫ পয়েন্টের বেশি। এ ছাড়া বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইএক্স সূচকটি বেড়েছে ৬ পয়েন্টের মতো। এদিন ঢাকার বাজারে বেক্সিমকো ফার্মার প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫ টাকা ২০ পয়সা বা সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮ টাকা ৪০ পয়সায়।

এ ছাড়া ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দাম ২ টাকা ৬০ পয়সা বা পৌনে ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৮ টাকা ৪০ পয়সা। গত এক মাসে ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ১৫ টাকা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারের এই উত্থানে বড় ভূমিকা রাখছে ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলোর মূল্যবৃদ্ধি। গত এক মাসে কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক অন্যতম।

ঢাকার বাজারে আজ ৩৬টি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৬টির দাম। ঢাকার বাজারে আজ লেনদেনের শীর্ষে ছিল উত্তরা ব্যাংক। এদিন ব্যাংকটির প্রায় সাড়ে ৪৪ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। দিন শেষে উত্তরা ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৯০ পয়সা বা ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৭০ পয়সায়।

এদিকে ব্যাংকসহ ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে বাজারে লেনদেনও বেড়েছে। আজ ঢাকার বাজারে লেনদেনের‌‌‌ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৭৪ কোটি টাকা বা প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। শুধু তা–ই নয়, গত প্রায় এক বছরের মধ্যে আজই ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ১৪ আগস্ট ঢাকার বাজারে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৪৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।

 

এনএএন টিভি