সময় পেরিয়ে গেলেও, শেষ হয়নি পাবনার বন্দরের নির্মাণকাজ

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি পাবনার নগরবাড়ি নৌ-বন্দরের নির্মাণকাজ। বন্দরের কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬০ ভাগ।

অন্যদিকে ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা সমস্যাকে দায়ী করে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে কর্তৃপক্ষ।

২০১৮ সালের জুনে পাবনার নগরবাড়িতে একটি আধুনিক নদীবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু করে সরকার।

চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুনে। কিন্তু তা এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি।

একদিকে চলছে নৌ-বন্দর নির্মাণকাজ, অন্যদিকে চলছে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস। এতে পিছিয়ে পড়ছে সার্বিক কার্যক্রম।

ফলে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।

বড় জাহাজ ভিড়তে না পারায় পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে পণ্য সরবরাহ।

দুর্ভোগে পড়া এক ব্যবসায়ী বলেন, পণ্য আনা-নেয়া ও লোড-আনলোড করতে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই বন্দরে জাহাজ ভিড়তে পারে না।

ফলে ব্যবসায়ীরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেনই, পাশাপাশি শ্রমিক ও স্থানীয় জনসাধারণও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এদিকে প্রকল্পের শুরুতেই ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও বর্ষা মৌসুমের

কারণে বিপাকে পড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এস রহমান গ্রুপের প্রজেক্ট ম্যানেজার বদরুল আমিন।

তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে পানি এসে যাওয়ার কারণে আমরা কাজ করতে পারিনি। সেই সঙ্গে এখানে বন্দরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ফলে বন্দরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে আমাদের একটু সময় লেগে যাচ্ছে।

এর মধ্যেই প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) নগরবাড়ির সহকারী বন্দর ও পরিবহণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন,

‘এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। তবে প্রকল্পের মেয়াদকাল এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

ফলে তা শেষ হচ্ছে ২০২৩ সালের জুনে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদকাল আরও দুই বছর বাড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন,

‘আমরা জেটির কাজ ৮০ শতাংশ শেষ করে ফেলেছি। আশা করছি ,বর্ষা মৌসুমে বাকি কাজ শেষ করতে পারব।

এ কারণেই মূলত আমরা প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়েছি।

এনএএন টিভি