সিন্ডিকেট করে মুরগির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
আর কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের।
তবে অভিযোগ মানতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।
ডিম-মুরগির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে পোলট্রি খাতের প্রভাবশালী একটি ব্যবসায়ী মহল।
নিত্যপণ্যের বাজারে এমন অভিযোগ, যুক্তি-তর্ক যখন তুঙ্গে,
তখন এবার সিন্ডিকেটের উপস্থিতির কথা জানিয়েছে স্বয়ং বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, বর্তমানে বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ৫০টি মামলা চলমান রয়েছে কমিশনে।
যার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে পোলট্রি খাত।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন,
সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন ঘটাতে প্রভাবশালী কোনো কোনো মহল চেষ্টা করছে।
এই মহল বিশেষ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তা
পর্যায়ে দাম বাড়াচ্ছে বলে প্রতিযোগিতা কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
একই অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার পথে হাঁটছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন,
মূলত এসএমএসের মাধ্যমে মুরগির দাম নিয়ন্ত্রণ করছে একটি সিন্ডিকেট।
তাই এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সরকারের এমন অবস্থান প্রসঙ্গে এ খাতের ব্যবসায়ীদের চ্যালেঞ্জ,
জীবন্ত পণ্য ডিম-মুরগি নিয়ে বাজার কারসাজি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে
জানিয়েছে ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, বাজারে সিন্ডিকেট করার কোনো সুযোগ নেই। অযথা দায় চাপানো হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।
তিনি বলেন, বাজারে এ অবস্থা চলমান থাকলে চাপে পড়বেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই।
আর বাজারে কখনো ব্রয়লারের দাম উঠে যাচ্ছে ২৫০ টাকায় আবার কখনো তা আকস্মিক নেমে আসছে ১৭০-১৮০ টাকায়।
এমন অস্থিরতাই বাজারে সিন্ডিকেটের উপস্থিতির অভিযোগকে উসকে দিচ্ছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
