ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শারমিন আঁখি গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন,
‘আজ ঠিক দু’মাস পর প্রথম রোদের আলো গায়ে মাখা। আগামী ৬ মাস এই আলোর সঙ্গে আমার আড়ি। ভালো থেকো রোদ।’
এরপরই এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অভিনেত্রী আঁখি জানান, আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ আছেন।
কারণ, ডাক্তার বলেছে বাড়িতে যেতে। সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথার।
তিনি বলেন, ‘সেদিনের বিভীষিকা এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। সেদিন আমি মিরপুরে শুটিং হাউজের ওয়াশরুমে যাই।
সেখানে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে স্পার্ক হচ্ছে মনে হলো। এরপর হঠাৎ বিকট শব্দ। ওই সময় বাথরুমের দরজা ভেঙে উড়ে যায়।
আমার শরীর অর্ধেক বাথরুমের ভেতর ছিল, আর অর্ধেক বাইরে। মুহূর্তেই শরীর দগ্ধ হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পটাই যদি জীবন হয়, তবে শিল্পের জন্য এর চেয়ে বেশি কীভাবে মূল্য দেওয়া যায় আমি জানি না। একলা আমি আর কীভাবে ফাইট করব?
আমি মরে গেলে হয়তো এতদিনে সবাই সোচ্চার হতেন। তাহলে মরে গেলেই ভালো হতো।
সব অভিনয় শিল্পীরা এতোদিনে এক হয়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধন করে ঠিকই সবাই একত্রিত হতেন।
চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শারমিন আঁখি বলেন, ‘যারা আমাকে দীর্ঘদিন সেবা দিয়ে আজ বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন, আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
আমি যখন আইসিইউতে ছিলাম তখন থেকেই মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রচারের খবর পাই। যেগুলো আমার জন্য খুবই বেদনাদায়ক ছিল।
আর এজন্য আজ আমি আমার এই পোড়া শরীর নিয়ে আপনাদের সামনে এসেছি।
অনেকে বলছেন, আমি স্মোকিং করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেদিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ ঘটনা ঘটার পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই শুটিংহাউজ আমার কোনো খোঁজ নেয়নি। সবসময় আমার পাশে ছিলেন আমার স্বামী রাহাত।’
প্রসঙ্গত, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন,
শারমিন আঁখির শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আর ৩৫ শতাংশ দগ্ধ যে কোনো মানুষের জন্য আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও বলেন, আমাদের তত্ত্বাবধানে দুই মাস চিকিৎসা শেষে আজ তাকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিচ্ছি।

Comments are closed.