জন্ম নিবন্ধন কিংবা সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি ৫০ টাকা হলেও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব(প্রশাসনিক কর্মকর্তা) আল আমিন কাজি জনপ্রতি নিচ্ছেন দু’শ টাকা । সম্প্রতি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্কুল ভর্তি থেকে শুরু করে চাকুরি জীবনে প্রবেশ সহ নানা কাজে ব্যবহার করতে হয় জন্ম নিবন্ধন। বিভিন্ন কারণে জন্ম নিবন্ধনে থাকা নামের বানান সহ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের জন্য নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে ভিড় জমান সেবাগ্রহিতারা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতিনিয়ত অন্তত শতাধিক সেবাগ্রহিতা আসেন সেবা নিতে ।
বাংলাদেশ সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী শূণ্য থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত নবজাতকদের জন্ম নিবন্ধন করতে কোন ফি দেয়া লাগবেনা যা সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে ৪৬ দিন থেকে নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে লাগবে মাত্র ২৫ টাকা আর ৫ বছরের বেশি বয়স থেকে যে কোন বয়সীদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন বা সংশোধনে লাগবে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা।তবে ব্যাতিক্রম হচ্ছে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করতে লাগবে ১০০ টাকা । নির্ধারিত ফি এর সম্পূর্ণ বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি। তিনি বলেন, সরকারী ফি সর্বোচ্চ ১০০ টাকার বেশি হতে পারে না।
সরকারী এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আমিন কাজি সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে জনপ্রতি নিচ্ছেন ২০০ টাকা । যার প্রমাণ মিলেছে গত ২১ সেপ্টেম্বর ( সোমবার) সরেজমিনে আবু সাইফ নামের এক ব্যাক্তির জন্ম সনদের ইংরেজি সংস্করণ করতে গেলে তার কাছ থেকে আদায় করা হয় ২০০ টাকা। ইউপি কর্মকর্তা আল আমিন কাজির বিকাশ নাম্বার ০১৬৭৫১৬১১৩৪ এ ২০০ টাকা গ্রহণ করেন তিনি যার ট্রানেেজকশন নাম্বার উওখ৩চড১ঈতঢ । এছাড়াও প্রায় ১ ঘন্টার বেশি সময় পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় একাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা এবং বিকাশে অর্থ সংগ্রহ করছেন তিনি।
অপরদিকে একটি সাধারণ হিসেবে দেখা যায়, প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ জন সেবাগ্রহিতা যদি ২০০ টাকা করে প্রদান করেন তবে সরকারী ৫০ টাকা বাদ দিলে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ১৫০ টাকা যার মোট পরিমাণ দিনে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি মাসে যার মোট পরিমাণ দাড়ায় ২ লাখ টাকারও বেশি।
জানা যায়, আল আমিন কাজি মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ৫ বছর ধরে কর্মরত আছেন। বিয়ষটি সম্পর্কে তার কাছে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারিনি। সেবা গ্রহিতাদের থেকে আদায় করা এসব টাকা কিভাবে ফেরত দিবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
তবে এসব বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরীকে কার্যালয়ে না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।
