মানবিক সহায়তা নিয়ে অবরুদ্ধ গাজার পথে রওনা হওয়া একটি ত্রাণবাহী জাহাজকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ‘হান্দালা’ নামের ওই জাহাজটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) উদ্যোগে গাজাগামী হয়েছিল। তবে স্থানীয় সময় শনিবার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে ইসরায়েলি বাহিনী সেটিকে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকেই বাধা দিয়ে থামিয়ে দেয় এবং জাহাজের আরোহীদের ‘অপহরণ’ করে নিয়ে যায়।
এক বিবৃতিতে এফএফসি জানায়, আটক করার সময় জাহাজটি গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৪৭ কিলোমিটার) দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল। ইসরায়েলি বাহিনী প্রথমেই জাহাজে থাকা সব ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। এরপর জাহাজটির সঙ্গে সংস্থাটির আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
ফ্রিডম ফ্লোটিলা জানিয়েছে, হান্দালা জাহাজটিতে মোট ২১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ১৯ জন বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মী এবং ২ জন ছিলেন আল–জাজিরার সাংবাদিক। তাঁরা গাজায় অবরুদ্ধ মানুষের জন্য শিশুখাদ্য, ডায়াপার, খাবার ও ওষুধ নিয়ে যাচ্ছিলেন। এফএফসি একে ‘জীবন রক্ষাকারী ত্রাণসামগ্রী’ বলে উল্লেখ করেছে।
সংস্থাটির দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী ত্রাণবাহী জাহাজটিকে গাজা উপকূল তথা ফিলিস্তিনের জলসীমার বাইরে থেকে আটক করেছে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হান্দালা নামের জাহাজটি গাজাবাসীর জন্য ‘জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী’ নিয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে শিশুখাদ্য, ডায়াপার, খাবার, ওষুধ ছিল। ইসরায়েলি বাহিনী জাহাজটির আরোহীদের অপহরণ করে নিয়ে গেছে। জব্দ করা হয়েছে জাহাজে থাকা মালপত্র। গাজা উপকূল তথা ফিলিস্তিনের জলসীমার বাইরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।
জাহাজটিতে ১০টি দেশের মোট ২১ জন ছিলেন বলে জানিয়েছে এফএফসি। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন অধিকারকর্মী। অন্য দুজন আল–জাজিরার সাংবাদিক।
এদিকে গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজকে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এ ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে উল্লেখ করে এ জন্য নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ‘আমরা জাহাজে থাকা অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতার জন্য নেতানিয়াহু সরকারকে দায়ী করি। সেই সঙ্গে গাজায় অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এসব ত্রাণবাহী জাহাজের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দিতে আহ্বান জানাই।’
আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীদের সাহসের প্রশংসা করে বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ‘ইহুদিবাদীদের হুমকি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের (অধিকারকর্মীদের) বার্তা আমাদের জনগণ ও বিশ্বের কাছে পৌঁছেছে।’

One Reply to “গাজাবাসীর জন্য তাঁরা জাহাজে এনেছিলেন ত্রাণ, ধরে নিয়ে গেল ইসরায়েল”
Comments are closed.