কয়েক কোটি ডলার দেয়ার পরও সকল অস্ত্র হাতে পায় নি ইউক্রেন

অস্ত্র কিনতে কয়েক কোটি ডলার দিয়েছে ইউক্রেন। কিন্তু এসব অস্ত্র এখনো তারা হাতে পায়নি। মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সহযোগিতার নামে পাঠানো সমরাস্ত্রগুলো শুধু অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ হিসেবে ব্যবহারের যোগ্য।

প্রভাবশালী এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে এসেছে।

সোমবার (১৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,

ইউক্রেন সরকারের গত বছরের শেষ দিকের নথিতে দেখা গেছে, রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে।

এরপর অস্ত্র কিনতে ঠিকাদারদের ৮০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ দিয়েছে কিয়েভ। কিন্তু চুক্তি অনুসারে সম্পূর্ণ বা আংশিক অস্ত্রও পায়নি দেশটি।

কিয়েভের অস্ত্র ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন,

শুরুতে না পাওয়া অনেক অস্ত্র শেষ পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী অর্থ ফেরত দিয়েছে।

কিন্তু বসন্তের শুরু পর্যন্ত কয়েক শ’ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিও রয়েছে। তবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।

এদিকে অস্ত্র ক্রয় সংশ্লিষ্ট ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভলোদিমির হাভ্রিলভ বলেন,

অর্থ পরিশোধ করেও অস্ত্র না পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরে আগের অস্ত্র ক্রয়ের বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু হয়েছে এবং জটিলতা তৈরি করা ঠিকাদারদের এরইমধ্যে বাদও দেওয়া হচ্ছে।

কিয়েভের কথিত পশ্চিমা মিত্রদের পক্ষ থেকে পাঠানো নিরাপত্তা সহযোগিতায় আধুনিক অস্ত্র ছিল।

এর মধ্যে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-যা রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মিত্রদের পাঠানো অস্ত্রের মজুদের ব্যাপক মেরামতের প্রয়োজন পড়েছে।

এর মধ্যে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কিয়েভের অস্ত্রাগারে থাকা এই সমরাস্ত্রের ৩০ শতাংশেরই যেকোনো সময় মেরামত প্রয়োজন হতে পারে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এমন সেনাবাহিনীর জন্য এই হার অনেক বেশি, যাদের পাল্টা আক্রমণে সম্ভাব্য সব অস্ত্র প্রয়োজন।

গত বছর রাশিয়া অভিযান শুরুর পর থেকে কথিত পশ্চিমা মিত্ররা কয়েক শ’ কোটি ডলারের অস্ত্র পাঠিয়েছে ইউক্রেনে।

গত সপ্তাহ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একাই ৪ হাজার কোটি ডলার মূল্যের (আর্থিক মানবিক সহযোগিতা বাদে) অস্ত্র দিয়েছে।

ইউরোপীয় মিত্ররাও কয়েক শ’ কোটি ডলারের অস্ত্র দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন নিজেও বেসরকারি বাজার থেকে অস্ত্র কিনতে কোটি ডলার ব্যয় করেছে।

সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞাদের মতে, ইউক্রেনের অস্ত্র ক্রয়ের আকারের কারণে নানা সমস্যা দেখা দেওয়া অবশ্যম্ভাবী ছিল।

এন এ এন টিভি