পদত্যাগ করলেন জাপানের কৃষিমন্ত্রী তাকু ইতো। দলের সমর্থকদের থেকে চাল উপহার নেয়া নিয়ে এক মন্তব্যের পর চরম বিতর্ক ও দেশের জনগণের কঠোর সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন তিনি। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন মতে, গত রোববার (১৮ মে) রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী তাকু ইতো বলেন, তার চাল কিনতে হয় না, কারণ এটা তিনি বিনামূল্যে পান। জাপানে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির মধ্যে কৃষিমন্ত্রীর এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন জাপানিরা। শুরু হয় বিতর্ক ও সমালোচনা। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (২১ মে) পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।
গত এক বছরে জাপানে চালের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। খারাপ ফলনের চালের যোগান কমেছে। পাশাপাশি ব্যাপক পর্যটক আগমনের কারণে চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে জাপানিদের প্রধান খাদ্যপণ্যটির দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এমন সময় কৃষিমন্ত্রী ইতোর মন্তব্যে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরিস্থিতি শান্ত করতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ক্ষমা চান। সেই সঙ্গে ইঙ্গিত দেন যে, তিনি চান কৃষিমন্ত্রী তার পদে থাকুন এবং চালের ‘ক্রমবর্ধমান মূল্য স্থিতিশীল’ করুন।
গত মঙ্গলবার (২০ মে) ইশিবা সাংবাদিকদের বলেন যে, চালের মূল্য বৃদ্ধির সাথে লড়াই করা গ্রাহক এবং ফসল উৎপাদনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করা কৃষকদের প্রতি এতোর মন্তব্য অত্যন্ত অনুপযুক্ত ছিল। তিনি বলেন, এই মন্ত্রীর নিয়োগকারী ব্যক্তি হিসেবে তিনি এর দায় তীব্রভাবে অনুভব করছেন।
ইতোকে তার পদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জনগণ বুঝতে পারবে কি না জানতে চাইলে ইশিবা বলেন, মন্ত্রীর কাজ হলো আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান চালের মূল্য মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট ফলাফল অর্জন করা। ইশিবা ইঙ্গিত দেন যে তিনি চান এতো তার এই দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত পালন করুন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কথায় সমালোচনা ও বিতর্ক থামেনি। সেই সমালোচনা ঝড়ে পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেন ইতো। বুধবার তিনি প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সাথে দেখা করে পদত্যাগপত্র পেশ করেন। এরপর সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘জনগণ চালের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ভোগান্তিতে আছেন। এমন সময় আমার মন্তব্য ছিল খুবই অনুপযুক্ত।’
জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমিকে তাকু ইতোর স্থলাভিষিক্ত করা হবে।
বহু বছরের মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতনের অভাবের মধ্যে চালের দাম বৃদ্ধিতে জাপানিদের কপালে বাড়তি চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দাম সামাল দিতে জরুরি গুদাম থেকে চাল বাজারে আনছে সরকার। তবে এই পদক্ষেপে সামান্য ফল পাওয়া গেছে।
টানা ১৮ সপ্তাহ চড়া থাকার পর আগের সপ্তাহে কিছুটা দাম কমলেও, খুচরা বাজারে চালের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খুচরা বিক্রেতা এবং সাধারণ ভোক্তা উভয়েই সস্তা, বিদেশি চাল কেনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
