জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এক অজ্ঞাত রোগে মাত্র এক মাসের মধ্যে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে একের পর এক মৃত্যু ওই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়। কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন মতে, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাত রোগের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। ওইদিন অজানা কারণে রাজৌরি জেলার বাধাল গ্রামে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপর আরও গত রোববার (১৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত ওই গ্রামের তিনটি পরিবারের অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারগুলোর মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কও আছে। এর মধ্যে দুটি পরিবারের ৯ সদস্য গত ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে মারা যান। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোহাম্মদ আসলামের পরিবার। বাবা-মা ও ৬ সন্তানসহ পরিবারের ৮ সদস্যকে হারিয়েছেন আসলাম।
গত রোববার তার ১৬ বছর বয়সি মেয়ে ইয়াসমিন কৌশার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ইয়াসমিন ছিলেন আসলামের শেষ জীবিত সন্তান। বাধাল মূলত একটি তফসিলি উপজাতি অধ্যুষিত গ্রাম। এই গ্রামটি এখন শোক ও আতঙ্কে ডুবে আছে। গ্রামে সব ধরনের সামাজিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং বাসিন্দারা বাইরের খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন।
এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সরকার। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। এছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ১১ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় তদন্ত দল গঠন করেছে। উচ্চ পর্যায়ের দলটি গত রোববার থেকে কাজ শুরু করে।
গত মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বাদাল গ্রাম পরিদর্শনকালে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘বেসামরিক প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সক্রিয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এর বাইরে একটি কেন্দ্রীয় তদন্ত দল নিযুক্ত করা হয়েছে এবং এই দুর্ভাগ্যজনক প্রাণহানির কারণ উদঘাটনে নিরলসভাবে কাজ করছে।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্ত দলের প্রাথমিক তদন্তে নিকটবর্তী একটি জলাধারে কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে দূষিত পানি ও মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হয়নি এবং দূষণের কারণও নির্ধারণ করা হয়নি।
