মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে। এরই মধ্যে পাল্টা ও শাস্তিমূলক শুল্ক হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে এসব পদক্ষেপ উপেক্ষা করেই আগামী সেপ্টেম্বরে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়াতে চলেছে ভারত। দেশটির ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাশিয়ার সঙ্গে তেলবাণিজ্য বন্ধে নয়াদিল্লিকে বাধ্য করতে এবং মস্কোকে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতে চাপ দিতেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর শাস্তিমূলক বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মস্কো। এতে কমে যায় দেশটির জ্বালানি তেল সরবরাহ। এমন বাস্তবতায় ভারত রুশ জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে। কারণ, ভারতের পরিশোধনকারীরা মস্কো থেকে সস্তায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার সুবিধা পাচ্ছেন।
তবে রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতের কঠোর সমালোচনা করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শাস্তি হিসেবে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন ট্রাম্প। গত ২৭ আগস্ট ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
ভারত বলছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক সমস্যার সমাধান করতে চায়। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকসহ অন্যান্য কূটনৈতিক সফরেও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ভারত সস্তা দামের রুশ জ্বালানি তেল থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। অন্যদিকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তুলেছে ভারত। দেশটির দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র এখনও রাশিয়া থেকে শত শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে।
তেল বিক্রির সঙ্গের সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র বলেছে, ভারতের পরিশোধনকারীরা সেপ্টেম্বরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে, যা দৈনিক দেড় থেকে তিন লাখ ব্যারেলের সমান।
ভারত বর্তমানে রুশ জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। দেশটির মোট চাহিদার ৪০ শতাংশই পূরণ হয় রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল থেকে। চীন ও তুরস্ক রুশ জ্বালানি তেলের অন্য দুই শীর্ষ ক্রেতা।

One Reply to “ট্রাম্পের হুমকিকে ‘পাত্তা দিল না’ ভারত, রাশিয়ার থেকে কিনবে আরও তেল”
Comments are closed.