নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের ইচ্ছা মামদানির, ট্রাম্প বললেন, ‘সম্ভব নয়’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে, নিউইয়র্ক সফরে এলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেফতার করা হবে না। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের সম্ভাবনার কথা বলার পরই এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প।

সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই, কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রেফতার করা হবে না।’

এর আগে, নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সপ্টেম্বরে শহরে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে বলে মন্তব্য করেছিলেন মেয়র জোহরান মামদানি।

শনিবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই একই মত পোষণ করেন।’

মামদানির এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু এমন একটি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান সম্প্রতি ৫২ হাজার নিরীহ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং গত ৪৭ বছর ধরে মার্কিন সেনাসহ বহু মানুষকে হত্যা করে আসছে।

তিনি আরও লেখেন, ‘যাদের গ্রেফতার করা উচিত, তারা হলো সেই ব্যক্তিরা, যারা ইরানকে মৃত্যু ও ধ্বংসের এই নজিরবিহীন চক্রে ঠেলে দিয়েছে। আগের প্রেসিডেন্টদেরই অনেক আগেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।’

আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা

২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগ, গাজায় যুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার, বেসামরিক জনগণের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা, হত্যা, নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অন্যান্য অপরাধের জন্য দায়ী।

এই মামলার সূত্রপাত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়া

রোববার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইসিসি এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির কঠোর সমালোচনা করে নেতানিয়াহুর কার্যালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইসিসি একটি প্রহসনের আদালত, যার যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাগরিকদের ওপর কোনো এখতিয়ার নেই। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা তথাকথিত গ্রেফতারি পরোয়ানাটি দিয়েছিলেন আইসিসির সাবেক প্রসিকিউটার করিম খান, যার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার মাত্র কয়েক দিন আগে।’

আরও বলা হয়, ‘করিম খানের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন না করে মি. মামদানির উচিত তার নীতির কারণে নিউইয়র্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়া। করিম খানের মতো মামদানিও নিজের ব্যর্থতা থেকে জনদৃষ্টি সরিয়ে ইহুদি রাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশের নেতাকে আক্রমণ করতেই বেশি আগ্রহী বলে মনে হয়।’