যুক্তরাষ্ট্রের গর্ভপাতের দায়ে তরুণীকে ৯০ দিনের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যে ওষুধ খেয়ে গর্ভপাত করায় এক তরুণীকে ৯০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত।

১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীর নাম সেলেস্তে বার্গেস।

গর্ভপাতে সহায়তা করার অভিযোগ সেলেস্তের মা জেসিকা বার্গেসকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত।

নেব্রাস্কায় গর্ভধারণের সময় ২০ সপ্তাহের বেশি হলে গর্ভপাত আইনত নিষিদ্ধ ছিল।

সেলেস্তে প্রায় ২৮ সপ্তাহে অবৈধভাবে গর্ভপাত করেছেন।

এ কারণে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

তবে এই রাজ্যে বর্তমানে গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত বছরের জুনে সেলেস্তে ও তাঁর মা জেসিকার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

এরপর ওই মাসেই গর্ভপাতের অধিকার দেওয়া প্রায় পাঁচ দশকের একটি পুরোনো আইন বাতিল করে রায় দেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

জাতীয় আইনটি বাতিল করে আদেশে বলা হয়,

এখন অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গর্ভপাতের অনুমতি প্রদান অথবা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন করতে পারে।

এর পরপরই রক্ষণশীল কয়েকটি অঙ্গরাজ্য দ্রুত আইনটি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়।

গর্ভপাত করানোর সময় সেলেস্তের বয়স ছিল ১৭ বছর।

সে সময় অঙ্গরাজ্যে গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহের পর গর্ভপাত আইনত নিষিদ্ধ ছিল।

চলতি বছরের শুরুর দিকে রাজ্যের আইনপ্রণেতারা গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহ থেকে গর্ভপাত নিষিদ্ধের আইন পাস করেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, সেলেস্তে তাঁর গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাসে গর্ভপাত করানোর জন্য ওষুধ খেয়েছিলেন, নেব্রাস্কার আইন অনুযায়ী যা অবৈধ।

প্রাথমিকভাবে সেলেস্তে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি মৃত ভ্রূণের জন্ম দিয়েছেন।

কিন্তু আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কীভাবে গর্ভপাতের ওষুধ পাওয়া যাবে এবং এর সব প্রমাণ পুড়িয়ে ফেলতে হবে—এ নিয়ে সেলেস্তে ও তাঁর মা জেসিকা ফেসবুক মেসেঞ্জারে আলোচনা করেছেন।

অবৈধ গর্ভপাত করানো ও বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগে গত মে মাসে সেলেস্তেকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

আদালত তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ডসহ দুই বছরের পর্যবেক্ষণে (প্রবেশন) থাকার রায় দেন।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রূণের মৃত্যু গোপন করা ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

আর অবৈধ গর্ভপাতে সহায়তা করা ও কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সেলেস্তের মা জেসিকাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে জেসিকার সাজা শুরু হবে।

এনএএন টিভি