সহকর্মীকে ফাঁসাতে শিশুদের খাবারে বিষ মেশানোয় শিক্ষিকার মৃত্যুদণ্ড

সহকর্মীকে ফাঁসাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ মেশানোর অভিযোগ উঠেছিল স্কুলেরই এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুও হয়েছিল।

৪ বছর আগের সেই ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষিকাকে চলতি সপ্তাহেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চীন সরকার।

শুক্রবার (১৫ জুলাই) চীনের সরকারি সংবাদপত্রে এ ঘটনাটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকার নাম ওয়াং উন।

২০২০ সাল থেকে হেনান প্রদেশের আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। বৃহস্পতিবার আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। তার পরই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

চীনে বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড মাথার পেছনে বুলেট ছোড়ে কার্যকর করা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় প্রাণঘাতী ইনজেকশনও।

ঘটনার সূত্রপাত স্কুলের অন্য এক শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে। ২০১৯ সালের মার্চে ওয়াং সোডিয়াম নাইট্রেট কিনে আনেন।

তারপর স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবারে সেই রাসায়নিক মিশিয়ে দেন।

তাতে বিষক্রিয়া হয়ে এক শিক্ষার্থীর বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয়। আরও ২৫ জন শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

কীভাবে শিশু শিক্ষার্থীর বিষক্রিয়া হলো, তা নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। কিন্তু কিছুতেই কোনও সূত্র খুঁজে পাচ্ছিল না তারা।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই তদন্ত চলে। অবশেষে এই ঘটনায় শিক্ষিকার জড়িত থাকার সূত্র খুঁজে পান তদন্তকারীরা। কিন্তু ততদিনে স্কুল থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছিলেন ওয়াং।

ইচ্ছাকৃত ক্ষতির জন্য প্রাথমিকভাবে ৯ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন ওয়াং। কিন্তু পরে তার শাস্তি মৃত্যুতে উন্নীত করা হয়। ওয়াং অবশ্য আদালতে প্রাণ বাঁচানোর আবেদন করেছিলেন।

তিনি জানিয়েছিলেন, তার এক সহকর্মীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এমন পথ বেছে নিয়েছিলেন।

চীনে প্রতিবছর কত মানুষের মৃত্যুদণ্ড হয়, তার সরকারি গণনা প্রকাশ্যে আসে না।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে,

দেশটি প্রতি বছর হাজার হাজার বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বলে ধারণা করা হয়, যা বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card