সুদানে যুদ্ধরত দুই পক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আরো ৭২ ঘন্টার জন্য বাড়াবে।
কিন্তু রাজধানী খার্তুমে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন উদ্বেগজনক।
ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনী এবং এর প্রতিদ্বন্দ্বী, আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘর্ষে দুই সপ্তাহে শত শত মানুষ মারা গেছে এবং কয়েক হাজার মানুষ তাদের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে গেছে।
এ ছাড়া আরো কয়েক হাজার আহত হয়েছে।
সুদানে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে জেনারেলদের একটি কাউন্সিল দেশটি পরিচালনা করছে।
এই কাউন্সিলের শীর্ষ দুই সামরিক নেতাকে ঘিরেই চলছে লড়াই।
এরা হলেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান । এবং দেশটির উপনেতা ও আরএসএফ কমান্ডার জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো।
এই দুই জেনারেল দেশটি পরিচালনা করে আসছিলেন।
কিন্তু একপর্যায়ে আগামীতে দেশটি কিভাবে পরিচালিত হবে এবং দেশটির বেসামরিক শাসনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাবনা নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
প্রায় এক লাখ সদস্যের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সেনাবাহিনীতে একীভূত করার পরিকল্পনা এবং তার পরে নতুন এই বাহিনীর নেতৃত্বে কে থাকবে তা নিয়েই মূলত এই বিরোধ।
আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদানে ১৫ এপ্রিল সহিংসতা শুরু হয়। এর আগে দলগুলো ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি দিতে সম্মত হয়।
স্থানীয় সময় গত সোমবার মধ্যরাত থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর গত বুধবার সেনাবাহিনী জানায়,
বৃহস্পতিবার রাতে আগের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে রবিবার পর্যন্ত নতুন করে তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত তারা।
এরপর প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অন্য দল আরএসএফ বৃহস্পতিবার বলেছে, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া আরো ৭২ ঘন্টা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত তারা।
এদিকে সেনাবাহিনী বলেছে, তারা সুদানের বেশিরভাগ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং খার্তুমে একটি বিশাল আরএসএফ এর দলকে পরাজিত করছে।
ফলে যেখানে কিছু আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং রয়টার্সেএর সাংবাদিকরা জানিয়েছেন,
প্রথম ৭২ ঘন্টার যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে যুদ্ধে আংশিক শিথিলতা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার রাজধানী এবং তার নিকটবর্তী শহর ওমদুরমান এবং বাহরিতে বিমান হামলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমান বিধ্বংসী গুলির শব্দও শোনা যায়।
সূত্র : রয়টার্স
