সেক্স টয়ে কোকেন: ইন্দোনেশিয়ায় নারী গ্রেফতার

মাদক পাচারে কত রকমই না বিকল্প খুঁজছে মানুষ! পেরুর এক নারীকে সেক্স টয় এবং অন্তর্বাসে লুকিয়ে কোকেন নামের মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৪২ বছর বয়সী নারী শুধু তার নামের আরম্ভিক অক্ষর ‘এনএস’হিসেবে পরিচিত। ১২ই আগস্ট কাতার থেকে বালি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় তার সন্দেহজনক আচরণ দেখা যায়।

বালির নার্কোটিক্স ইউনিটের পরিচালক রেডিয়ান্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কাস্টমস কর্মকর্তারা তার আচরণে সন্দেহ করেন। পুলিশের পরামর্শের পর বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তে প্রকাশ পায়, ওই নারী তার শরীরের গোপনাঙ্গ ও অন্তর্বাসে লুকানো সেক্স টয়ের মধ্যে ১.৪ কেজি (৩.১ পাউন্ড) কোকেন বহন করছিলেন। এছাড়া পুলিশের অভিযোগ, তিনি ডজন ডজন এক্সটেসি বা উত্তেজনা সৃষ্টিকারী পিলও পাচার করার চেষ্টা করছিলেন। গ্রেফতারকৃত নারী পুলিশকে জানান, তিনি এপ্রিল মাসে ডার্ক ওয়েবে একজন পুরুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এই মাদক বহনের কাজটি করছিলেন। এর জন্য তাকে ২০,০০০ মার্কিন ডলার দেয়ার কথা ছিল। ইন্দোনেশিয়ার কঠোর নার্কোটিক্স আইনের আওতায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। গত মাসে বালির একটি আদালত ৪৬ বছর বয়সী আর্জেন্টিনার এক নারীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। তিনি ২৪৪ গ্রাম কোকেন কনডমে মুড়ে লুকিয়ে বহন করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। ইন্দোনেশিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর মাদক আইনের প্রয়োগ দেখা যায়। দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বহু মাদক পাচারকারী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৯ বছর বয়সী বৃটিশ নারীও। তিনি কোকেন পাচারের দায়ে দণ্ডিত। ইন্দোনেশিয়ায় সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ২০১৬ সালে। তখন এক ইন্দোনেশীয় এবং তিনজন নাইজেরিয়ার মাদক অপরাধীকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এমন কঠোর আইন, পুলিশের তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটক আসার ফলে বালি দ্বীপে মাদক পাচারের চেষ্টা প্রায়শই ধরা পড়ে।

এনএএন টিভি