আগামী সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে,আলোচনায় প্রস্তুত হামাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

শুক্রবার (৪ জুলাই) হামাসের পক্ষ থেকে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর আগে গত মঙ্গলবার ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে প্রায় ২১ মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত প্রস্তাব করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হামাসের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদও যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তবে তারা পরিষ্কারভাবে বলেছে, এই আলোচনা স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে উপনীত হবে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতেই তারা এই অবস্থান নিয়েছে।

এক হামাস কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আমরা কাতার ও মিশরকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আমাদের জবাব দিয়ে দিয়েছি। হামাসের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। আমি মনে করি বিষয়টি চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, গাজায় আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের সর্বশেষ প্রস্তাব সম্পর্কে হামাস নিজেদের মধ্যে পরামর্শ এবং ফিলিস্তিনি অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা শেষ করেছে।

আগামী সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। তার এই সফরের আগেই শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামাসের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া ভালো খবর।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যেই একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তি সম্ভব হতে পারে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখনও আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়নি।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি হতে পারে এবং প্রয়োজনে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ ২১ মাস ধরে চলা গাজা সংঘাতের একটি টেকসই অবসান আনতে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে সব পক্ষের আন্তরিকতা ও যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি মেনে চলার প্রতিশ্রুতির ওপর।

 

এনএএন টিভি