জাতিসংঘের পরমাণু চুক্তি ছুড়ে ফেলল ইরান, কী হতে যাচ্ছে?

সম্প্রতি ইরানের পরমাণু স্থাপনায় চালানো মার্কিন হামলায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ‘এক থেকে দুই বছর পেছাতে বাধ্য হয়েছে’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ‘অভূতপূর্বভাবে ধ্বংস’ করা হয়েছে।

বুধবার (২ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, আমাদের গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরানের কর্মসূচি কমপক্ষে এক থেকে দুই বছর পেছানো গেছে। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনার পর ইরানের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে সংস্থাটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না থাকায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান।

 

এ ছাড়া দেশটির অভিযোগ ছিল, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কোনো নিন্দা বা প্রতিবাদ জানায়নি আইএইএ।

এদিকে আইএইএ থেকে ইরানের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেছেন, ইরানের এই স্থগিতাদেশ অগ্রহণযোগ্য, কারণ তাদের সামনে পথ পরিবর্তন করে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল।

তিনি আরও বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে বা রাখতে পারে না।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, আইএইএ-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ইরানের এই ঘোষণায় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

ভবিষ্যতের আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ইরানের অস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করা প্রয়োজন।

তারা বলছেন, আইএইএ-র পর্যবেক্ষণ ছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচির স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আসছিল।

পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরান বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোতে পারে। যদিও তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য ।

 

 

এনএএন টিভি