ইসলামিক দৃষ্টিতে ভুঁড়ি খাওয়া জায়েজ। তবে এ সকল ভুড়ি ময়লা থেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। ইসলামে হালাল পশুর যে ৭টি অংশ খাওয়া নাজায়েজ, এর মধ্যে ভুঁড়ি নেই। সুতরাং ভুঁড়ি খাওয়া হালাল বা বৈধ।
ইসলামিক দৃষ্টিতে হালাল পশুর নিষিদ্ধ অংশগুলো হলো-
১. প্রবাহিত রক্ত,
২. অণ্ডকোষ,
৩. চামড়া ও গোশতের মধ্যে সৃষ্ট জমাট মাংসগ্রন্থি,
৪. মূত্রথলি,
৫. পিত্ত,
৬. নর
৭. মাদির যৌনাঙ্গ।
হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) বকরির সাতটি জিনিস অপছন্দ করেছেন: পিত্ত, মূত্রথলি, মাংসগ্রন্থি, নর ও মাদির যৌনাঙ্গ, অণ্ডকোষ, (প্রবাহিত) রক্ত।’ (কিতাবুল আসার: ৮০৮) গরুর বট খাওয়ার অপকারিতা, গরুর ভুড়ি দাম
বাদায়িউস সানায়ি’ গ্রন্থে এসেছে- ‘হালাল প্রাণীর সাতটি অংশ খাওয়া নিষেধ। তা হলো-
প্রবাহিত রক্ত, পুরুষ লিঙ্গ, অণ্ডকোষ, স্ত্রী লিঙ্গ , চামড়ার নিচের টিউমারের মতো উঁচু গোশত, মূত্রথলি, পিত্ত।
কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষণা করেন ও নিষিদ্ধ করেন নোংরা বস্তুসমূহ। (সুরা আরাফ ১৫৭) আর এই সাতটি বস্তু এমন যা মানুষ স্বভাবত ঘৃণা করে।’
মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) বকরির পুরুষ লিঙ্গ, অণ্ডকোষ, স্ত্রী লিঙ্গ,
চামড়ার নিচের টিউমারের মতো উঁচু গোশত, পিত্ত, মুত্রথলি ও প্রবাহিত রক্ত অপছন্দ করেছেন।’
এখানে মাকরুহ (অপছন্দ) দ্বারা উদ্দেশ্য, মাকরুহে তাহরিমি।
কেননা, উক্ত ছয়টি বস্তুর উল্লেখ প্রবাহিত রক্তের সাথে করা হয়েছে। আর প্রবাহিত রক্ত হারাম।
ইমাম আবু হানিফা (রহ) থেকে বর্ণিত, রক্ত হারাম, ছয়টি বস্তু মাকরুহ। রক্ত হারাম; কেননা, তা অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত।
আর তা (দলিল) হলো- আল্লাহ তাআলার বাণী- أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا তথা প্রবাহিত রক্ত।’ (বাদায়িউস সানায়ি: ৫/৬১)
উল্লেখিত, আলোচনায় যেসব অঙ্গ খাওয়া হারাম ও অবৈধ বলা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে ভুড়ি বা বটের উল্লেখ নেই।
সুতরাং অন্যান্য হালাল অঙ্গের মতো ভুড়ি খাওয়াও হালাল বা বৈধ। যদিও কেউ কেউ ভুড়ি খাওয়াকে মাকরুহ বলেছেন।
তাদের কাছে ভুড়ি খাওয়া রুচিসম্মত নয় মনে হয়েছে, সেজন্য মাকরুহ বলেছেন।
কিন্তু সমাজে ভুড়ি বা বট খাওয়ার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে, যার দ্বারা বুঝা যায়, সবার কাছে বিষয়টি রুচিবিরুদ্ধ নয়।

Comments are closed.