ট্যানারি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (টিডব্লিউ) শীর্ষ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ও সোলডারিটি সেন্টার-বাংলাদেশ অফিসের আয়োজনে
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ট্যানারিশিল্পে শ্রমিকদের অধিকার সংক্রান্ত এক আলোচনাসভায় এ দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চামড়াশিল্পের উন্নয়নে সরকার মালিক ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সলিডারিটি সেন্টার-বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি মূল প্রবন্ধে বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৪ সালের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা,
দ্রুত নতুন কাঠামো গঠন করা এবং প্রতিটি কারখানায় সরকারঘোষিত নিম্নতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করার দাবি জানান।
ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আলোচনা অংশ নেন সলিডারিটি সেন্টার-বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর কেএম নাসিম,
ডেপুটি ডিরেক্টর মনিকা হার্সেল, ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী,
সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, স্কোপের যুগ্ম সমন্বয়ক স্বামীমা আরা, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন,
বাংলাদেশ লেবার রাইস জার্নালিস্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান, লেবার কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভোকেট শারমিন সুলতানা প্রমুখ।
বক্তারা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে সেফটি কমিটি গঠন ও কার্যক্রম জোরদার করা
এবং পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদার করাসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন।
শ্রমিক সংগঠনের নেতারা চামড়াশিল্পের স্বার্থে অবিলম্বে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা বন্ধ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
সেমিনার থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে চামড়াশিল্প নগরীতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা,
প্রসূতি কল্যাণ সুবিধার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাসহ সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা,
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সিইটিপিকে পুরোপুরি কার্যকর করে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চামড়াশিল্প নগরী গড়ে তুলতে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউি সনদ) অর্জনের পথ অগ্রসর হতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য করা।

Comments are closed.