১৭ এপ্রিল প্রবাসী সরকারের শপথ গ্রহণ দিবস স্মরণে, শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস এবং ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ, পাচার ও লুন্ঠনকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন এবং সংবিধান সংস্কার সভা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসাথে করার দাবিতে সমাবেশ থেকে এই দাবী করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে দলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল তারা গরীব, দু:খী জনগণের পক্ষে থাকবেন। তাদের পক্ষে আইন বানাবেন, রাষ্ট্র সংস্কার করবেন। কিন্তু আজ ৮ মাস পরেও এদেশের গরীব, দু:খীদের পক্ষের কাজগুলোতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট। আমাদের বারংবার দাবীর পরও কৃষি সংস্কারের কোন কমিশন হয় নাই। দূর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী, পাচারকারীদের বিচার করা হয় নাই। পাচারকৃত টাকা ফেরতের কার্যকর কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। টাকা উদ্ধার ও বিচারের জন্য আমাদের দাবীকৃত ট্রাইব্যুনাল বানানো হয়নি।
বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই লুটপাট, পাচারকারীদের বিচরণ এখন খোলামেলা। তারা নিজেরা সরাসরি নিজেদের টাকায় কিংবা সরকার ও রাষ্ট্র যন্ত্রের প্রচ্ছন্ন সহায়তায় নিত্য নতুন রাজনৈতিক দল বানাচ্ছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন।
গত ৫৪ বছরের সরকারগুলোর মতো এই সরকারও দ্রব্যমূল্য কমাচ্ছে কৃষক মেরে। রাজস্ব ঘাটতি পূরণ করছে গ্যাসের দাম, তেলের দাম বাড়িয়ে। এই সহজ পথ তারা বেছে নিয়েছে লুটপাটকারী, পাচারকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে।
দলের অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া বলেন, মুজিবনগর প্রবাসী সরকার বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল সরকার। তারা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন, দেশ স্বাধীনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল তারা মাফিয়াতান্ত্রিক ব্যবস্থার রাশ টেনে ধরবেন; নাগরিকদের জান, জবান, সম্মানের অধিকার নিশ্চিতে রাষ্ট্র সংস্কার করবেন। কিন্তু আমরা দেখছি সরকারের অদক্ষতা, অযোগ্যতা, অবহেলা এবং অপরাধের প্রমাণ এখন সুস্পষ্ট। এমনকি রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে নূন্যতম জাতীয় ঐক্য নিশ্চিতেও সরকার ব্যর্থতার পরিচয় রাখছেন।
বিশেষ কোন কোন দলের প্রতি সরকারের পক্ষপাতিত্ব খুবই দৃষ্টিকটু। কারো কারো বিরুদ্ধে নতুন করে জুলুমবাজ হয়ে উঠার সুস্পষ্ট লক্ষণ থাকলেও সরকার নির্বিকার। বরং চিহ্নিত লুটপাটকারীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক দলগুলো এবং সেটাও সরকারেরই প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায়। এভাবে আগামী দিনের স্বৈরাচার, জুলুমবাজ সরকার বানানোর উদ্যোগে এই সরকার যুক্ত হয়ে পড়ছেন৷ এটা আমরা হতে দিবো না।
অবিলম্বে সকল রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে সাথে নিয়ে নূন্যতম জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের যাত্রা বেগবান করতে সরকারকে আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের জাতীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য জাকিয়া শিশির, রাষ্ট্র সংস্কার শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি মিন্টু মিয়া, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দীন, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য সেলিম খান। সঞ্চালনা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সমন্বয়ক সোহেল শিকদার।
সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন / এনএএন টিভি
