বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি টেকসই কৃষি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আগামীকাল রবিবার কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) সম্মাননা-২০২১ উপলক্ষে আজ শনিবার দেয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী কৃষিক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ এআইপি সম্মাননা-২০২১ প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যারা এ স্বীকৃতি পাচ্ছেন তাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করি। সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০০৯, জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৮, জাতীয় জৈব কৃষিনীতি-২০১৬, সমন্বিত ক্ষুদ্রসেচ নীতিমালা-২০১৭, জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতি-২০২০, বাংলাদেশ উত্তম কৃষি চর্চা নীতিমালা-২০২০ সহ বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা প্রায় ২ কোটি কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করেছি। প্রায় ১ কোটি কৃষকের ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা খামার যান্ত্রিকীকরণের জন্য ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ শুরু করেছি। বর্তমানে এ ভর্তুকি ৫০ শতাংশে এ উন্নীত করা হয়েছে এবং হাওড় এলাকার জন্য তা ৭০ শতাংশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তার সরকার কৃষিকে জীবিকা নির্বাহের স্তর থেকে লাভজনক ও বাণিজ্যিক পেশায় উন্নীত করে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমরা শস্য বহুমুখীকরণ, জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, ঋতুভিত্তিক ফলের চাষ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, ভূ-উপরিস্ত পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ, প্রাণিজ আমিষ চাহিদা পূরণে ডিম ও দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের কৃষি তথা গ্রামের সাথে সংযোগ বৃদ্ধি করেছি। আমরা কৃষিতে ই-কৃষির প্রবর্তন করেছি। কৃষি সেবাকে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য তৈরি করেছি কৃষি বাতায়ন। স্থাপন করেছি কৃষি কল সেন্টার, কৃষি কমিউনিটি রেডিও, কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র। বিভিন্ন মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি তথ্য সেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম অনুধাবন করেছিলেন জ্ঞাননির্ভর আধুনিক কৃষিই উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রথম সোপান। তাই তিনি স্বাধীনতার পরপরই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি দেশের কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২৫ বিঘা পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফসহ উন্নত কৃষি উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেন। তিনি ১৯৭২ সালে ১০০টি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করেন। তাঁর নির্দেশে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু পুরস্কার তহবিল’ গঠন করা হয়। তিনি কৃষিবিদদের চাকরি প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় উন্নীত করেন।
প্রধানমন্ত্রী এআইপি সম্মাননা ২০২১-এর জন্য মনোনীত সকলকে আবারও অভিনন্দন জানিয়ে অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
