রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে নির্মমভাবে দল বেঁধে পিটিয়েছেন ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ।
সে সময় তারা পরিচয় লুকাতে চেষ্টা করেন। কারও কারও নেমপ্লেট ছিল না। মুখোশ ও বড় মাস্ক ছিল তাদের মুখে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈমকে পেটানো হয় থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে।
ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে নির্যাতনে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যদের পরিচয়।
তাদেরই একজন শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম মোস্তফা।
দুই নেতাকে পেটানোর সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি) হারুন অর রশিদের সঙ্গে সবচেয়ে আগ্রাসী ছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় পুলিশের রমনা বিভাগ থেকে বদলি হওয়া এডিসি হারুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনে সই করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হারুন অর রশিদকে জনস্বার্থে সরকারি কর্ম থেকে বিরত রাখা আবশ্যক ও সমীচীন।
তাকে সরকারি চাকরি আইনের বিধান অনুযায়ী ১১ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়,
সাময়িক বরখাস্তকালীন এডিসি হারুন পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন,
নির্যাতনে যারা জড়িত তাদের সবাইকে খুঁজে বের করা হবে।
তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে নির্মম নির্যাতেনর শিকার আনোয়ার হোসেন নাঈমের সুচিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাঈম বলেন,
জ্ঞান হারানোর আগে আমি নিজের পরিচয় দিয়েছি।
এর পর এডিসি হারুন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ১০ থেকে ১২ পুলিশ সদস্য আমার ওপর হামলে পড়েন।
তারা বুট দিয়ে মারতে থাকেন। এডিসি হারুন ছাড়া সবাই পোশাক পরিহিত ছিলেন।
কারও কারও নেমপ্লেট ছিল না। মুখোশ ও বড় মাস্ক ছিল তাদের।
ডিএমপি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) বিপ্লব কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বলেছেন, কোনো ব্যক্তির দায় পুলিশ নেবে না।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর কাকে কতটুকু দায়ী করবে,
তার ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ চাকরিচ্যুত হতে পারেন, কেউ তিরস্কৃতও হতে পারেন।

Comments are closed.