আংশিক চালু সেবায় ,৪০ দিন পর খুলল ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবন,

টানা ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর খুলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের তালা। আগামীকাল সোমবার থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবার কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন, বাধাবিপত্তি ছাড়াই চালু হবে অফিস কার্যক্রম।

আজ রবিবার দুপুরে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন প্রধান সমন্বয়ক মশিউর রহমান ।

আজ রোববার সকালে নগর ভবনের প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়। সকাল ৯টা থেকে ডিএসসিসির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নগর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। নগর ভবনে আংশিকভাবে শুরু হয়েছে নাগরিক সেবা কার্যক্রম।

‘সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি বিবেচনায় আমরা কাল (সোমবার) থেকে নগর ভবন ও এর আওতাধীন সব আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছি। নাগরিক সেবায় যেন কোনো বাধা না আসে, সে জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত অফিস করবেন।’
ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। তবে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কিছুটা নমনীয় হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। নাগরিক সেবার প্রয়োজনে নগর ভবন খুলে দেওয়া হয়েছে।’

দক্ষিণ সিটির দুজন কর্মকর্তা বলেন, সকাল থেকে নগর ভবনের বিভিন্ন শাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রবেশ করে নিজ নিজ কক্ষে যান। যদিও অনেক কর্মকর্তা আজ অফিসে আসেননি। তবে কিছু জরুরি বিভাগ ধীরে ধীরে কাজ শুরু করেছে।

জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেবা পেতে নাগরিকেরা নগর ভবনে ভিড় করছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, এখনো পুরোদমে সেবা শুরু হয়নি। তবে আগের চেয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মচারীর আন্দোলনে প্রায় দেড় মাস নগর ভবনে সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

তবে আন্দোলন এখনই পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। উন্নয়ন প্রকল্প ও অন্যান্য বৃহৎ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলেও জানান আন্দোলনের সমন্বয়ক মশিউর রহমান। তাঁর ভাষায়, ‘বিগত সরকারের আমলে যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছেন, তাদের বিষয়ে আমরা সতর্ক। তারা নগর ভবনে প্রবেশ করলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’
প্রসঙ্গত, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণের দাবিতে গত ১৪ মে থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। সেই থেকে কার্যত অচল ছিল দক্ষিণের নগর প্রশাসন।

এদিকে তালা খুলে অফিস কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নগর ভবনে থাকা প্রশাসকের কার্যালয় এখনই খোলা হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে আন্দোলনের পক্ষ থেকে।

 

এন এ এন টিভি

Share this news as a Photo Card