পাকিস্তান ক্রিকেট কোচিংয়ে অস্থিরতা: কারস্টেন পদত্যাগ

ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৫ (বাসস) : অবশেষে পাকিস্তানের সাদা বলে প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার গ্যারি কারর্স্টেন।

মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেই পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন গ্যারি কারস্টেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রখ্যাত কোচ সরাসরি জানিয়েছেন, পাকিস্তান দলের কোচ হিসেবে তিনি তার ভূমিকায় যথাযথ প্রভাব ফেলতে পারছিলেন না, যা তাকে ‘অর্থহীন’ মনে হয়েছে।

এরপর থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও শুরু হয়েছে অস্থিরতা। কেননা, সদ্য সাবেক এই কোচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অত্যন্ত সফল এক নাম। ২০১১ সালে ভারতের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয় এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার ঝুলিতে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের কোচের দায়িত্ব নেন কারস্টেন। একই সময়ে টেস্ট দলের কোচ হন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জেসন গিলেস্পি। কিন্তু ছয় মাস পরই কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন কারস্টেন।

গত বছর অস্ট্রেলিয়া এবং জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য পাকিস্তানের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণার পর পদত্যাগ করেন কারস্টেন। কারণ দল নির্বাচনে কারস্টেনের কোন মতামত নেয়নি পাকিস্তানের নির্বাচকরা। নির্বাচক প্যানেল থেকে তাকে সরিয়ে ফেলায় দলে প্রভাব হারান কারস্টেন।

উইজডেনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে কারস্টেন বলেন, ‘কয়েক মাস টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আমি দ্রুত বুঝতে পেরেছিলাম, দল গঠনে আমার মতামত না নেওয়ায় পাকিস্তান দলে প্রভাব ফেলতে পারব না। দল গঠন করার পর আমাকে জানানো হয়। আমার পক্ষে দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কোচ হিসেবে আমার কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমি দলে কোন রকম ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারিনি।’

ছয় মাসের হতাশাজনক অভিজ্ঞতার পরও ভবিষ্যতে আবারও পাকিস্তান দলের কোচ হতে আগ্রহী কারস্টেন। তবে সঠিক পরিবশে পেলেই পাকিস্তানে ফিরবেন বলে জানান তিনি, ‘যদি আগামীকাল আমাকে আবারও পাকিস্তানে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তবে আমি যাব। কিন্তু এবার আমি খেলোয়াড়দের জন্য এবং একইসাথে সঠিক পরিবেশ পেলে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেটীয় মানুষ নিয়ে ক্রিকেট দল পরিচালনা করা উচিত। যখন সেটা হবে না তখন বাইরের প্রভাবের কারণে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমি অন্য কোন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করতে পারি না। শুধু ক্রিকেট দলকে কোচিং করাতে চাই এবং খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে চাই। পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা দারুণ, আমি তাদের খুব পছন্দ করি। এই অল্প সময়ে আমি সেটি অনুভব করেছি, তারা কতটা চাপের মধ্যে থাকে। যখন তারা হারে, এটা তাদের জন্য ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে ।

প্রশাসনিক অদক্ষতা ও সীমাবদ্ধ স্বাধীনতা?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোচিং কাঠামোর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাই পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নয়ন থমকে দিচ্ছে। গ্যারি কারস্টেনের মতো অভিজ্ঞ কোচ যদি নিজের কৌশল বাস্তবায়নের স্বাধীনতা না পান, তবে ভবিষ্যতে ভালো মানের কোচ নিয়োগ করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আগেও পাকিস্তান দলের কোচদের দায়িত্ব থেকে আগেভাগে সরে দাঁড়ানোর নজির রয়েছে। মিকি আর্থার, মিসবাহ-উল-হক, ম্যাথু হেইডেন—এদের অনেকেই বিসিবির অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ কিংবা দিকনির্দেশনার ঘাটতির কারণে সময়ের আগেই বিদায় নিয়েছেন।

গ্যারি কারস্টেনের হঠাৎ পদত্যাগ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) জন্য বড় ধাক্কা। এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের আগে নতুন কোচ নিয়োগ এবং দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

তবে শুধু কোচ বদলালেই চলবে না—বিশেষজ্ঞদের মতে, দরকার সাংগঠনিক সংস্কার। কোচের হাতে যদি স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাস্তব ক্ষমতা না থাকে, তাহলে যে-কোনো পরিকল্পনা ধাক্কা খাবে, এবং এর চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হবে দলের পারফরম্যান্স।

 

এন এ এন টিভি