কলম্বোর চামড়া পোড়ানো, ঘামে ভেজানো গরম ছাড়া আর কোনো উত্তাপ খুঁজে পাওয়া গেল না সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। পাওয়ার কথাও নয় অবশ্য। নাজমুল হোসেনের টেস্ট নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে আলোচনাটা এখন মূলত দলের বাইরেই। দলের আবহে তার কোনো প্রভাব নেই। নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে পুরো দলের চিন্তায় এখন ২ জুলাই শুরু ওয়ানডে সিরিজ।
দ্বিতীয় টেস্টটা এক দিন আগে শেষ হয়ে যাওয়ার মন্দের ভালো, ওয়ানডের প্রস্তুতির জন্য একটি বাড়তি দিন পাওয়া। অবশ্য কাল সেই বাড়তি দিনে বিশ্রামে ছিলেন নাজমুল, মিরাজ, লিটন দাসসহ কলম্বো টেস্টে খেলা প্রায় সব ক্রিকেটার। ব্যতিক্রম দুই পেসার ইবাদত হোসেন ও নাহিদ রানা। ওয়ানডে দলে যোগ দেওয়া ক্রিকেটারদের সঙ্গে টেস্ট দলের এই দুজনও ছিলেন কাল সিংলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠের অনুশীলনে।
বেলা ২টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার অনুশীলনে ওয়ার্মআপ থেকে শুরু করে নেটে ব্যাটিং-বোলিং, ফিল্ডিং প্র্যাকটিস—সবই হয়েছে। টেস্ট দলের ক্রিকেটারদের ফ্লাইট আজ, এই সুযোগে ওয়ানডে দলে না থাকা ইবাদতও নেটে দীর্ঘ সময় বোলিং করেছেন। যদিও মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসানদের মধ্যে পেস বোলিং কোচ শন টেইটের মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন চোট কাটিয়ে ফেরা পেসার তাসকিন আহমেদ। নেটে প্রায় প্রতিটি বলের আগেই তাঁকে কিছু না কিছু পরামর্শ দিয়েছেন টেইট।
মিরাজের সঙ্গে নাজমুলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই আছে সব সময়। বিসিবির সাম্প্রতিক অধিনায়কত্ব বদল নাটকের প্রভাবে সেটিতে চিড় ধরার আপাতত কোনো শঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে মিরাজের দিক থেকে বাড়তি উদ্যোগ আছে যেন নাজমুলের মনে অধিনায়কত্ব হারানো নিয়ে কোনো অস্বস্তি না থাকে ।
নাজমুলকে ওয়ানডে অধিনায়কের পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়াটি যে প্রশ্নবিদ্ধ, তা না বোঝার কথা নয় মিরাজেরও। কিন্তু দায়িত্ব যখন পেয়েছেন, সেটি তো পালন করতেই হবে। আর সে কাজে সদ্য সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক নাজমুলকেই সবচেয়ে বড় সুহৃদ হিসেবে পাশে চাইছেন মিরাজ।
গল টেস্টে মিরাজ খেলেননি অসুস্থতার কারণে। তবে গলের পর্বটাকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন অন্যভাবে। টেস্ট সিরিজের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এবং পাকাপাকিভাবে জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর অভিষেক হবে এই সিরিজেই। ওয়ানডে দল আর ওয়ানডের পরিকল্পনা নিয়ে তাই গল থেকেই নাজমুলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, যেটির ধারাবাহিকতা আছে কলম্বোতেও।
ওয়ানডে বাংলাদেশ দল সর্বশেষ খেলেছে গত ফেব্রুয়ারিতে হওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। তার আগে গত বছরের ডিসেম্বরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর এবং নভেম্বরে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ ধরলে সর্বশেষ আটটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটিতে। সেটিও আফগানিস্তানের কাছে ২-১–এ হারা সিরিজে।

2 Replies to “নাজমুলের কাছে সাহায্য চাইলেন, মিরাজ কিন্তু কেন”
Comments are closed.