ঘরের মেঝে খুঁড়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার, বাবা আটক

“মাটি খুঁড়ে ধরা পড়ল নিখোঁজ শিশুর দেহ, আটক স্বীয় বাবা”

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে দুই বছরের শিশু সন্তানকে হত্যার পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে মো. নুরুল আমিন (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. নুরুল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় দুই বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মরদেহটির পাশের গর্তে দুটি মৃত ছাগলও পাওয়া গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, ওই শিশু ও ছাগল দুটিকে হত্যার পর মাটিচাপা দেয় শিশুটির বাবা নুরুল আমিন (৩০)।

বুধবার (১৯ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম ধুরাইল গ্রাম থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত নুরুল আমিন ধুরাইল গ্রামের বাসিন্দা। নিহত আইয়ুব আলী একই গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি মারমুখী আচরণ করছিলেন। গতকাল,বুধবার বিকেলে স্ত্রী জোসনা বেগমকে মারধর করে শিশুছেলে আইয়ুবকে টেনেহিঁচড়ে নুরুল ঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রাখেন। এ সময় কেউ কাছে এলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেন নুরুল আমিন। তাঁর কাছে গেলে স্ত্রী ও মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এর আগে নুরুলের মারধরের শিকার হয়েছেন তাঁরা। এ কারণে ভয়ে তাঁরা ঘরে না গিয়ে অন্যত্র সরে যান। এদিকে সন্ধ্যার দিকে শিশুটির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। সন্ধ্যার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় কৌশলে ঘরে ঢুকে শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরের মেঝেতে মাটির স্তূপ দেখে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।নুরুল জানান, কান্না করায় মাথায় আঘাত করে শিশুকে হত্যা করে পুঁতে রেখেছেন। একই সঙ্গে ঘরে থাকা ছাগল দুটিকেও হত্যা করে পাশে আরেকটি গর্ত খুঁড়ে পুঁতে রাখেন।
থানায় খবর দিলে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে গর্ত খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে সেই সঙ্গে নুরুল আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান হারুন বলেন, শিশুটির মাথা ও কানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শাবল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত নুরুল আমিনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এন এ এন টিভি

Share this news as a Photo Card