বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি দেশের ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি নীতিমালা জারি করেছে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কিছু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বিশেষ করে বৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধা দিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধার তুলনায় এই নীতি সহায়তা কিছুটা বিস্তৃত পরিসরে গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে (১) নীতি সহায়তাপ্রাপ্তির যোগ্যতা, (২) নীতি সহায়তার ধরন ও প্রকৃতি, (৩) বিশেষ ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধা, (৪) বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারজনিত ক্ষতির প্রেক্ষিতে নীতি সহায়তা, (৫) বিশেষ ঋণ পুনর্গঠন সুবিধা, (৬) বিশেষ ঋণ স্থানান্তর বা এক্সিট সুবিধা এবং (৭) নীতি সহায়তা গ্রহণের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া ও অযোগ্যতা।
প্রথমত, বিশেষ ঋণ পুনঃ তফসিল ছিল খুবই সীমিত পরিসরের একটি সুবিধা, যেখানে ঋণের অর্থ পরিশোধ এবং ভালো রাখার বিষয়টি উল্লেখ আছে। সেদিক থেকে নীতি সহায়তার আওতায় কিছু বর্ধিত সুবিধা রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধার আওতায় নতুন ঋণ প্রদানের কোনো বিধান ছিল না, কিন্তু নীতি সহায়তায় সেই সুযোগ রাখা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে নীতি সহায়তা প্রদানের সার্কুলার জারির পর ঋণ পুনঃ তফসিল সুবিধা এই নীতিমালার একটি অংশ হয়ে গেছে।
নীতি সহায়তা সার্কুলারে কিছু সীমাবদ্ধতা এবং অসামঞ্জস্যতা লক্ষ করা গেছে। প্রথমত, নীতি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে যারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরবরাহ বিঘ্ন এবং মুদ্রার অস্বাভাবিক অবমূল্যায়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা এই নীতি সহায়তা পাবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সরবরাহ বিঘ্নের বিষয়টি এতটাই বিষয়ভিত্তিক (সাবজেক্টিভ) যে এটা কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করা কঠিন। ফলে এ বিষয় নিয়ে গ্রাহক এবং ব্যাংকারদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে এবং অনেকেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

One Reply to “বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা আরো সহজ করা প্রয়োজন”
Comments are closed.