জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাঠে ছিলাম ‘ক্ষুব্ধ নারী সমাজ’ :ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তিনি ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে সার্বক্ষণিক মাঠে ছিলেন।

তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি নিজে ‘ক্ষুব্ধ নারী সমাজ’ নামে একটি প্লাটফর্মের মাধ্যমে ছাত্র জনতার সর্বশেষ বিজয় না আসা পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। তার সঙ্গী সাথীদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এখনো অনেকেই সেই করুণ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি তার সেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে এ কথা বলেন।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করছে। শুধু এই বর্ষপূর্তি নয়, সারা জীবন- বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, বাংলাদেশের মানুষ ততদিন এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে

তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা এবং তাদের কর্মসংস্থান ও জীবন মান উন্নয়নের জন্য সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, তিনি ছাত্র জনতার আন্দোলনের বিজয় হাতে না আসা পর্যন্ত সর্বক্ষণ মাঠে ছিলেন। তিনি দেখেছেন- ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে তাদের বাবা-মায়েরা কিভাবে সমভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।

ফরিদা আখতার বলেন, আন্দোলনের মাঝামাঝি এক পর্যায়ে এমন হয়েছিল যে, তখন আমাদের নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা একে অপরকে ফোন করে কথা বলতাম, সারারাত অস্থিরতায় ঘুমাতে পারতামনা। কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলামনা। চারদিকে ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানূষের উপর অত্যচার নির্যাতন, গুলি, ছাত্রলীগের হামলা। মানে এমন একটা নিষ্ঠুরতার চিত্র দেখছিলাম কিন্তু কিছু করাও যাচ্ছিল না।

পুলিশের বাধায় আমরা আর হাইকোর্টের দিকে যেতে পারলাম না। তখন দুপুর প্রায় ১২ টা। পুরুষ পুলিশের সাথে আমরা যখন সামনে এগুবার জন্য তর্ক করছি, এমন সময় আমাদেরকে মহিলঅ পুলিশ এসে ঘিরে ফেললো। আমাদের সামনে এগুতে না দিয়ে পুলিশ বললো, ওদিকে গোলাগুলি হবে যেতে পারবেননা। পরে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পুলিশের বাধায় আমরা ফিরে আসলাম।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের শেষের দিকে আমরা শাহবাগে জড়ো হওয়ার জন্য মোহাম্মদপুর থেকে শাহবাগে দিকে আসতে থাকি। কিন্তু সেখানে দেখি, একদিকে পুলিশ অন্যদিকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের উছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে। ফলে আমরা শাহবাগে অবস্থানের চেষ্টা করেও পারলাম না। ওইদিন দুপুরে আমরা মোহাম্মদপুরে সাত মসজিদ রোডে একত্রিত হয়ে সমাবেশ করলাম। উন্মুক্ত রাস্তার উপরে আমাদের কর্মী সমর্থকরা মুহুর্মুহু শ্লোগানে মুখরিত করে তুললো। আমরা সমাবেশে বক্তব্য দিলাম। এ সময় মহিলা যুবলীগের একদল উছৃংখল নারী কর্মী মিছিল নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা করলো। আমরা তখন জীবনের নিরাপত্তায় শঙ্কিত হয়ে কোনমতে পাশের একটি ভবনের নিচে আশ্রয় নিলাম। সেখানেও তারা আমাদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ এবং যুব মহিলালীগ কর্মীদের যৌথ হামলায় আমাদের অনেক কর্মী সেদিন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এত কিছুর পরও আমাদের আন্দোলন দমাতে পারেনি স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা স্মরণ করে প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, সাতমসজিদ রোডের সেই ঘটনায় আমাদের নারী নেত্রী ও কর্মীরা পুলিশের পাশাপাশি যুবলীগ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলায় সবচেয়ে বেশী আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। যেই ভবনে আমরা আশ্রয় নিতে গিয়েছিলাম, পুলিশ ছাত্রলীগের যৌথ হামলা দেখে সেই ভবন এবং আশপাশের ভবনগুলোর সিকিউরিটি গার্ডরা ভবনের নিরাপত্তার স্বার্থে গেইট বন্ধ করে দিলো। ফলে আমাদের অনেক কর্মি ভবনগুলোতে আশ্রয় নিতে পারেনি। যারা একটু ঢুকতে দেরি করেছিল তাদের কয়েকজন পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা অনেকক্ষণ ভবনগুলোতে আটকে থাকার পর আস্তে আস্তে যার যার বাসার দিকে চলে যাই।

 

এনএএন টিভি