অডিটের নামে দোকানে ঢুকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা চুরির অভিযোগে বগুড়ার শিবগঞ্জে দুই ইরানী যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে চালান করা হয়।
এর আগের দিন বুধবার রাতে নওগাঁর সদর এলাকায় পুলিশ এই দুইজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত দুজন হল, আজাদ নুবাহার (৩৫) ও আরসাদ আমন (৩৮)।
শিবগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রউফ জানান, গত শুক্রবার বিকেলে শিবগঞ্জের উপজেলা সদরের
হৃদয় টেলিকম নামে প্রতিষ্ঠানে ওই দুই ইরানী যুবকসহ ৪-৫ জনের একটি সংবদ্ধ প্রতারক চক্র উপস্থিত হন।
তারা এসেই অডিট করার কথা জানান টেলিকমের মালিক দুলাল মিয়াকে।
পাশাপাশি প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাদের মানিব্যাগ থেকে বিভিন্ন দেশের ডলার বের করেও দেখান।
এসব কথার ফাঁকে ইরানী যুবকরা নিজেদের কাছে থাকা নেশা জাতীয় দ্রব্য দুলাল মিয়া ও তার ভাগিনার চোখে ও মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
এতে তারা দুজনই বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং প্রতারকের কথামত চলতে থাকে।
এ সময় প্রতারক চক্রের সদস্যদের কথামত দুলাল তার ক্যাশ থেকে ১ লাখ টাকা বের করে দেন।
ঘটনার সময় বাহিরের লোকজন দোকানে আসতে চাইলে তাদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত
এক বাংলাদেশী যুবক বলে দোকানে এখন অডিট চলছে এ কারণে তাদের পরে আসতে বলে।
এ দিকে টাকা নিয়ে প্রতারক ২ জন দুলালের সাথে কুশল বিনিময় করে এলাকা থেকে দ্রুত চলে যায়।
এ ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর ব্যবসায়ী দুলাল বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
পরবর্তীতে তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে ঘটনা খুলে বলেন। প্রতারণার খবর পেয়ে পুলিশ মাঠে নামে।
পরে গত বুধবার নওগাঁ সদরে তাদের অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
পরে গত বৃহস্পতিবার সকালে শিবগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
এ ব্যাপারে দুলাল মিয়া বলেন, ওই সময় আমাদের কোনো জ্ঞান ছিলো না, তারা যা বলছিল সেই অনুযায়ী কাজ করতে থাকি।
পরে বিষয়টি বোঝার পর শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে জানাই।
এ ছাড়াও সিসি টিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়।
ওসি আব্দুর রউফ আরো বলেন, দুই ইরানী যুবক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন।
কিন্তু তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ অনেকদিন আগেই শেষ হয়েছে।
তারা বেশি কথা বলে না। তবে কথাবার্তায় বোঝা গেছে তারা পেশাদার অপরাধী।

Comments are closed.