দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়িতে মেয়ে-জামাতা আসবেন বলে কেনাকাটা করতে গত রোববার সকালে বাজারে গিয়েছিলেন গৃহবধূ সুচিত্রা সরকার (৪০)। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের ৫২ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ছোট গোবিন্দপুর গ্রামের বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সুচিত্রা সরকার ছোট গোবিন্দপুর গ্রামের রামচন্দ্র মণ্ডলের স্ত্রী। স্বজনদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে মর্গে পাঠিয়েছে। মাকে হারিয়ে একমাত্র মেয়ে শ্রাবন্তী সরকার বাড়িতে আহাজারি করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে সুচিত্রার বাড়ির পাশে পুকুরে তাঁর লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় সুচিত্রার স্বজনেরা লাশটি শনাক্ত করেন। বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কচুরিপানার মধ্যে লাশটি পাওয়া যায়।
নিহত সুচিত্রার বোন শিখা মণ্ডল বলেন, বোনের কানে ও গলায় স্বর্ণের গয়না ছিল। দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে সব নিয়ে গেছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দিলীপ হালদার বলেন, ঘটনাস্থলের চারদিকে কোনো রাস্তা নেই। চারদিকেই বাঁশবাগান ও ঝোপ। এই সুযোগে অপরাধীরা হয়তো সুচিত্রাকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, লাশটি গলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

2 Replies to “নবাবগঞ্জে নিখোঁজের ৫২ ঘণ্টা পর গৃহবধূর লাশ উদ্ধার”
Comments are closed.