জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম বাহাদুর খুনের মামলায় গ্রেপ্তার মা–মেয়েকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহ আজ বুধবার এই আদেশ দেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম বাহাদুর খুনের মামলায় মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে মা ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করে পুলিশ।
উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তাঁদের পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে আজ শেরেবাংলা নগরে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে
আবদুস সালাম খুনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক জানান,
শনিবার দিবাগত রাত ১১টার পর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আবদুস সালাম বাহাদুরের (৬০) লাশ পাওয়া যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা আজিমুল হক বলেন, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও
সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি অকার্যকর থাকায় প্রাপ্ত তথ্যগুলো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তেমন কিছু জানাতে পারেননি।
নিহত ব্যক্তির ভাই আবদুল করিম খলিফা শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় মানিকগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সালাম বাহাদুরের কথিত বান্ধবী ও তাঁর মাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার আরও বলেন, পাঁচ-ছয় বছর আগে অভিযুক্ত মেয়েটির সঙ্গে সালামের পরিচয় হয়।
মেয়েটি তখন ধানমন্ডির একটি সুপারশপে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
সালাম মেয়েটিকে (২৩) সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এতে তাঁদের দুজনের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
কিছুদিন পর মেয়েটি বুঝতে পারেন, সালাম তাঁকে চাকরি দেবেন না। পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে মেয়েটি সালামের সঙ্গে সম্পর্কের ছেদ টানেন।
মেয়েটি ঢাকা ছেড়ে মানিকগঞ্জে তাঁর বাড়িতে চলে যান।
এরপর গত শনিবার বিকেলে সিঙ্গাইরে মেয়েটির বাসায় যান সালাম।
এ সময় মেয়ের মায়ের সঙ্গে সালামের কথা–কাটাকাটি হয়। টের পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
তাঁরা একসঙ্গে সালামকে মারধর করেন।
আবদুস সালাম বাহাদুর (৫৮) জেপির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানিতে। ঢাকার ধানমন্ডিতে থাকতেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগে ঠিকাদারি করতেন।
