“কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে”—এই অমোঘ সত্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে জেলা পরিষদ, নীলফামারী। জেলা পরিষদের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় দুটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতায় জেলার মোট ২৫ জন কৃষক/উদ্যোক্তাকে মাল্টা, কলা, আনারস, রামবুটানসহ বিভিন্ন ফল এবং মৌসুমি শাকসবজি চাষের লক্ষ্যে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মানসম্পন্ন বীজ, জৈব সার, ক্ষতিকর কীটনাশক ধ্বংসের উপকরণ ও প্রয়োজনীয় গাইডবুক।
জেলা পরিষদ, নীলফামারীর উদ্দেশ্য হলো কৃষিতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি, স্থানীয় খাদ্য-ঘাটতি পূরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নিরাপদ ফল ও সবজি সারাদেশে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে কৃষি উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করা।
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী জনাব মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। তিনি কৃষকদের ‘এ মাটির প্রকৃত সন্তান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আপনারা ভালো থাকলে আমরা সবাই ভালো থাকবো। সুফলা ও শস্যশ্যামলা বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনারাই মূল শক্তি। আপনারা সফল হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আরও আয়োজন করা হবে।”
এসময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জনাব দীপঙ্কর রায় বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন ও ধর্মীয় উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রেও আমরা এগিয়ে এসেছি। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়ক উপকরণ বিতরণ তারই প্রমাণ।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নীলফামারীর উপপরিচালক ড. এসএম আবু বক্কর সাইফুল ইসলাম বলেন, “জেলা পরিষদের এ সময়োপযোগী উদ্যোগ প্রশংসনীয়। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে এ ধরনের প্রকল্প আরো বেশি গ্রহণ করা উচিত।”
এর মধ্য দিয়ে কৃষিনির্ভর নীলফামারীকে আরও সমৃদ্ধ করতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

One Reply to “নীলফামারীতে কৃষক উদ্যোক্তা তৈরিতে জেলা পরিষদের উদ্যোগ”
Comments are closed.