পালিত পুত্রকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার শরিকল ইউনিয়েনের মিয়ারচর গ্রামে ৭ বছর বয়সের এক পালিত পুত্রকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর

পানিতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পোষ্য বাবার বিরুদ্ধে।

এই অভিযোগ করেছেন মৃত ফাহিমের পালিত মা সদ্য তালাকপ্রাপ্তা ফেরদৌসি বেগম। মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে।

 

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে শিশুটির মরদেহ বুধবার ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০৮ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন চৌকিদারের মেয়ে

ফেরদৌসী আক্তারকে সামাজিকভাবে বিয়ে করেন গৌরনদী উপজেলার শরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর গ্রামের মজিবর রহমান চৌকিদারের ছেলে এনামুল হক চৌকিদার।

দীর্ঘ ১৫ বছরে তাদের দাম্পত্যে কোন সন্তান না হওয়ায় প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো তাদের মাঝে।

ফেরদৌসী আক্তার জানান, সাত বছর আগে তারা একটি পুত্র সন্তান লালন পালনের জন্য দত্ত¡ক নেন।

এতেও এনামুলের সন্তানের চাহিদা পূরন হচ্ছিলো না। সম্প্রতি সে অন্যত্র বিয়ে করেছে বলে তাদের জানায়।

এ নিয়ে ঝগড়া বিবাদের জেরে প্রায়ই তাকে (ফেরদৌসী) করে এনামুল। গত ১৫ জুলাই তাদের দাম্পত্যের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

ওই সময় এনামুল পালিত পুত্র ফাহিমকে তার কাছে রেখে দেন।
ফেরদৌসী আরও জানান,

গত মঙ্গলবার দুপুরে এনামুলের বাড়ির পুকুরের পানিতে ডুবে ফাহিমের মৃত্যুর খবর পান তিনি।

ওই বাড়ি গিয়ে দেখেন মৃত ফাহিমের মুখের মধ্যে ভাত রয়েছে।

খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে শিশু ফাহিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এনামুল শিশুটির পানিতে পড়ে মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছে বলে সন্দেহ করেন ফেরদৌসী।

পালিত পুত্র হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুল হক চৌকিদার বলেন,

ফেরদৌসীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ায় সে তাকে ফাঁসাতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ফাহিম পানিতে ডুবে মারা গেছে। যা ময়না তদন্তে প্রমাণ হবে।

এদিকে শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ ওঠায় থানা পুলিশ ওইদিনই তার লাশ উদ্ধার করে।

ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ বরিশাল মর্গে প্রেরন করে পুলিশ।

এ বিষয়ে গৌরনদী থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন,

শিশুটি হত্যার অভিযোগ ওঠায় তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

এনএএন টিভি