টু্ইটারের (বর্তমানে এক্স) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জ্যাক ডরসির প্রতিষ্ঠান ব্লকের তৈরি নতুন স্পিচ মডেল ‘ডেসা’ (Dessa) উন্মোচন করেছেন।
মডেলটি মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে ও একই সঙ্গে শুনতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ডরসি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে স্বাভাবিক মাধ্যম হলো কণ্ঠস্বর।
তাঁর ভাষায়, ডেসা হলো পূর্ণাঙ্গ দ্বিমুখী কথোপকথনভিত্তিক স্পিচ মডেল।
ডেসা আকারে ছোট হওয়ায় এটি ল্যাপটপেও চালানো সম্ভব। মডেলটির সক্ষমতা তুলে ধরে ডরসি লেখেন, ‘এটি বড় একটি অগ্রগতি, যদিও আকারে খুবই ছোট। এতটাই ছোট যে ম্যাকবুকেও চালানো যায়। প্রযুক্তির নতুন সীমা উন্মোচনে ডেসা দলের কাজ নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত।’
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ডেসার ইনফারেন্স বা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বাস্তব সময়ের চেয়েও দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং এতে কার্যত কোনো বিলম্ব নেই।
তবে এটি চালাতে অন্তত ম্যাকবুক প্রো এম৪ ম্যাক্স বা এর চেয়ে উন্নত সংস্করণ প্রয়োজন।
ডেসার আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলগুলোও ব্যবহারকারীর কণ্ঠে প্রকাশিত অনুভূতি বুঝতে পারে না। এর ফলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা খারাপ হতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা বিপজ্জনকও হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শুধু শব্দ ও মানুষের কথোপকথনের অডিও ব্যবহার করেই ডেসাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো টেক্সট বা আগে থেকে প্রশিক্ষিত মডেলের সহায়তা নেওয়া হয়নি।
ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘শুধু শুনেই এটি বাস্তব সময়ে কথোপকথন চালিয়ে যেতে শিখেছে। আমাদের জানা মতে, মানুষের কণ্ঠস্বর থেকেই প্রশিক্ষিত বিশ্বের প্রথম এআই এটি, যার সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করা যায়।’
ডেসার ওয়েবসাইটে একজন ব্যক্তির সঙ্গে মডেলটির কথোপকথনের একটি সরাসরি রেকর্ডিং প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, মডেলটি কখন কী বলবে, কীভাবে বলবে কিংবা কখন কথা থামাবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করে। এর নিজস্ব কণ্ঠস্বর ও কথোপকথনের ধরনও রয়েছে।
রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, কথার মাঝখানে মজার কিছু ঘটলে ডেসা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হেসে উঠছে। অন্য অনেক মডেল ব্যবহারকারীর কথা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে, তারপর হাসির প্রতিক্রিয়া জানায়। কিন্তু ডেসার প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি স্বাভাবিক বলে দাবি করা হয়েছে।
কথা বলতে গিয়ে ব্যবহারকারী মাঝপথে থেমে গেলে ডেসা কথোপকথনের শূন্যতা পূরণ করতে পারে। এটি মানুষের মতো বিস্ময় বোঝে এবং সহানুভূতিশীল ভঙ্গিতে সাড়া দেয়।
ডেসা তৈরি করেছে ব্লকের একটি ছোট এআই গবেষণাগার। এ দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন টরন্টোভিত্তিক ডিপ লার্নিং স্টার্টআপ ডেসার সাবেক সদস্যরা। গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে ডিপ লার্নিং মডেল ও জেনারেটিভ স্পিচ মডেল নিয়ে কাজ করছেন।
