বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) মধ্যে মানবাধিকার মিশন স্থাপন–সংক্রান্ত তিন বছরের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। মিশনের লক্ষ্য হবে, দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া।
আজ শনিবার (১৯ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়াই হবে মানবাধিকার মিশনের মূল উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার–সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণে এ দেশকে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। আর সে জন্য দক্ষতা, আইনগত সহায়তা ও প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে মিশন।
সরকারের এই উদ্যোগে ‘গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা’ প্রকাশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সে সময় ঘোষণা দেয়, বাংলাদেশে তারা জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় খুলতে দেবে না।
এ সংগঠনের আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ৫ জুলাই ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মানবাধিকারের’ নামে ইসলামি শরিয়াহ, পারিবারিক আইন ও ধর্মীয় মূল্যবোধে ‘হস্তক্ষেপের অপচেষ্টা’ করেছে।
“এসব হস্তক্ষেপ একদিকে যেমন জাতীয় সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত, অন্যদিকে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিরও পরিপন্থি। তাই বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় খুলতে দেওয়া হবে না।”
সরকারপ্রধানের দপ্তর বলছে, “আমরা স্বীকার করি, বাংলাদেশের কিছু গোষ্ঠী জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আদর্শগত অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
“বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সমাজ। আমাদের নাগরিকরা মনে করেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে আমাদের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সে কারণেই ওএইচসিএইচআর মিশনের কার্যক্রম গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারে এবং পূর্ববর্তী সরকারের সময় সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “এই মিশন বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, সমাজব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো সামাজিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হবে না।
“আমরা আশা করি মিশনটি স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। জাতিসংঘ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে কাজ করবে।”
সরকার প্রধানের দপ্তর বলেছে, “যদি ভবিষ্যতে এই অংশীদারিত্ব জাতীয় স্বার্থের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, তবে সরকার এমওইউ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “যদি পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময়ে এমন একটি মানবাধিকার অফিস থাকত, তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গণগ্রেপ্তারের অনেক ঘটনাই তদন্ত, নথিভুক্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারত।
“আমাদের মানবাধিকার সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি কেবল আদর্শগত নয়, বরং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে গঠিত হওয়া উচিত।

One Reply to “ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন, যা বলল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর”
Comments are closed.