শেষ তিন মাসে গ্রামীণফোনের ৪ হাজার ২২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন লিমিটেড ৪২২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। নতুন ২৩ লাখ গ্রাহক নিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট কোটি ৫৩ লাখে। গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৫৮.৩ শতাংশ অথবা চার কোটি ৯৭ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছে। গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটরটি।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) এক প্রেস বিজপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং গ্রাহক-কেন্দ্ৰিক ডিজিটাল সেবায় কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও চলমান প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে গ্রামীণফোন। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন লিমিটেড ৪ হাজার ২২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। তাছাড়া নতুন ২৩ লাখ গ্রাহক নিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫০ লাখে। গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৪ কোটি ৯৭ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছেন।

এ ব্যাপারে গ্রামীণফোনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নীতি, ক্রমাগত জ্বালানি সম্পদের দামের সমন্বয়, ভর্তুকি হ্রাস, সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি এবং ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সত্ত্বেও জিপি প্রবৃদ্ধির কৌশলে মনোযোগী ছিল, তাই প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে ব্যবসায় স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। মাইজিপি অ্যাপের বর্তমান সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি, যা অ্যাপটিকে দেশের বৃহত্তম সেলফ-সার্ভিস অ্যাপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আমরা বিভিন্ন স্মার্ট কৌশল অবলম্বন করেছি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: এআই-চালিত ডায়নামিক নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশন সিস্টেম স্থাপন, যা রিয়েল টাইম মুভমেন্টের ওপর ভিত্তি করে নির্বিঘ্ন সংযোগ দিয়েছে। গ্রামীণফোনের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এর কর্মচারীরা।’

গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো রিসব্যাক বলেন, এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাবস্ক্রিপশন ও ট্র্যাফিক রেভিনিউ ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। দক্ষতা ও অটোমেশনের ওপর ভিত্তি করে খরচের চাপ কমানো হয়েছে এবং ৬০ দশমিক ৪ শতাংশের একটি শক্তিশালী ইবিআইটিডিএ মার্জিন অর্জনে সক্ষম হয়েছে জিপি। এই নিয়ে টানা তেরো প্রান্তিকে আর্থিক অগ্রগতি এবং ইবিআইটিডিএর ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে গ্রামীণফোন। ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ব্যালেন্স শিটের জন্য বোর্ড এই প্রান্তিকের জন্য শেয়ারপ্রতি ১৬ টাকার অন্তর্বর্তী লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card