ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের দলনেতা সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান আজ বিকেলে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে তিনিসহ ইউনিটের চার সদস্য গ্যাস ডিটেকটর ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে গুদামের ভেতরে যান।
মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বলেন, ‘গ্যাস ডিটেকটর দিয়ে গুদামের টক্সিক (বিষাক্ত) গ্যাসের মাত্রা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। গতকাল আমরা হাইড্রোজেন সালফাইড, যেটা টক্সিক একটা গ্যাস এবং মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর, সেটার ফাইন্ডিংস পেয়েছিলাম ২০ পিপিএমের ওপরে,…এটাও ডেঞ্জারাস। আজ আমি ভেতরে পেয়েছি ১৪৯ পিপিএম। ১০০ পিপিএমের ওপরেই যেটা তাৎক্ষণিকভাবে জীবনের জন্য বিপজ্জনক।’
মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান আরও বলেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ১০০ পিপিএম থাকলেই একজন মানুষ তাৎক্ষণিক অচেতন হয়ে মারা যাবে, যদি যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া ভেতরে যায়। এ ছাড়া আশপাশে প্রচুর বিষাক্ত উপাদান বাতাসে রয়েছে। আশপাশে অন্তত ১৫০-৩০০ মিটার এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া ভালো। আর যেদিকে বাতাস যাবে, সেদিকে অন্তত দেড় কিলোমিটার মানুষ সরিয়ে নিতে পারলে ভালো।
গুদামের ভেতরে এখনো অনেক রাসায়নিকের বস্তা পড়ে আছে জানিয়ে মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান আরও বলেন, ‘গুদামের বাইরে হাইড্রোজেন সালফাইডের মাত্রা ৭০-৮০ পিপিএমের মতো। গতকাল কার্বন মনো–অক্সাইডের উপস্থিতি আমরা পাইনি। কিন্তু আজ গুদামে ৩ পিপিএম পেয়েছি।’
ঘটনাস্থলের আশপাশে কাউকে না যাওয়ার পরামর্শ দেন মাহমুদুজ্জামান। তিনি বলেন, উৎসুক মানুষ ও অনেক নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ভিড় করছেন। তাঁদের প্রতি সহানুভূতি আছে। তবে মাথায় রাখতে হবে, এটা সাধারণ কোনো আগুন নয়, কেমিক্যালের আগুন। এর আশপাশে যাওয়া যাবে না। কাছে গেলেই এটা কোনো না কোনোভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।

One Reply to “গুদামে বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা ১৪৯ পিপিএম, মুহূর্তেই অচেতন হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি”
Comments are closed.