ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীর ইজারা নিয়ে প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এতে ডিএনসিসির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকার বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ও।
প্রথম দফার দরপত্র বাতিল
চলতি বাংলা সনের জন্য প্রথম দফায় গাবতলী হাটের ইজারার দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। সর্বোচ্চ দর আসে ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা সরকার নির্ধারিত দর ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার চেয়ে অনেক বেশি। সর্বোচ্চ দরদাতা ছিল মেসার্স আরাত মোটর।
তবে, দরপত্র সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)-তে প্রকাশ না করার অজুহাতে তা বাতিল করে ইজারা না দিয়ে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
দ্বিতীয় দফার দরপত্র ও বিতর্কিত ইজারা
প্রথম দফার পর এক মাসের বেশি সময় খাস আদায় চালানো হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। এবার সর্বোচ্চ দর আসে ২৫ কোটি টাকা (টিএইচ এন্টারপ্রাইজ), কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি পরে ইজারা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
ফলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর ১৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা প্রস্তাবকারী এরফান ট্রেডার্সকে হাটের ইজারা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক এস এ সিদ্দিক ওরফে সাজু, বিএনপির এক নেতা এবং ডিএনসিসি প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিএনসিসির আর্থিক ক্ষতি
প্রথম দফায় সর্বোচ্চ দরদাতা থেকে ইজারা দেওয়া হলে আয় হতো ২২.২৫ কোটি টাকা
দ্বিতীয় দফায় দেওয়া হয় ১৫.৭১ কোটি টাকায়
ক্ষতি হয় ৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা
এক মাসের খাস আদায় থেকে আয় হয়েছে ৯৮ লাখ টাকা
মোট ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা
সরকারের রাজস্ব ক্ষতি
প্রথম দফায় ভ্যাট ও আয়কর বাবদ রাজস্ব হতো ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা
দ্বিতীয় দফায় হয়েছে ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা
ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা
প্রশাসকের বক্তব্য
ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দাবি করেন, প্রথমে খাস আদায়ের পরিকল্পনা ছিল। পরে কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করায় তিনি ‘বাধ্য হয়ে’ ইজারার সিদ্ধান্ত নেন। সর্বোচ্চ দরদাতাও কিছু টাকা জমা দিয়েও পুরোটা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিকল্প খোঁজা হয়।
প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নীতিমালা লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
গাবতলী হাটের ইজারাকে ঘিরে ডিএনসিসির সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার ঘাটতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডিএনসিসি ও সরকার উভয়ই। প্রয়োজন তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা ।
