নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগামী রাস্তায় ‘বাইদ্দা ’ বা বেদে জনগোষ্ঠীর একশ্রেণীর মানুষের জোরপূর্বক টাকা আদায় ও হয়রানি এখন নিত্যদিনের ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। পূর্বে ছোটখাটো সাহায্য বা হাত খরচের অজুহাতে টাকা চাওয়া হলেও, বর্তমানে তা স্পষ্টতই বেপরোয়া জোরপূর্বক টাকা দেয় ও হুমকির পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।
শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি রাস্তা আটকে, রিকশা থামিয়ে কিংবা জোর করে পথরোধ করে টাকা দাবি করছে। সম্প্রতি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তারের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এই চরম হয়রানির চিত্র। তিনি জানান, টাকা না দেওয়া পর্যন্ত জোর করে হাত ধরে আটকে রাখা হয় এবং টাকা দেওয়ার পর তবেই ছাড় মেলে। শুধু তাই নয়, কারো কাছে ছোট নোট না থাকলে ১০০ কিংবা ২০০ টাকার নোট নিয়ে বাকি টাকা আর ফেরত না দেওয়া এবং টাকা দিতে অস্বীকার করলে সাপ দিয়ে ভয় দেখানোর মতো ভয়াবহ কাণ্ড ও নিয়মিত ঘটছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।দৈনন্দিন যাতায়াতে এ ধরনের আশঙ্কাজনক হয়রানির শিকার হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নারী পথচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এতে একদিকে যেমন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত পথে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে , অন্যদিকে যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের দাবি, কলেজগামী এই গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে যৌথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করে এই হয়রানি চক্রের হাত থেকে সড়ক মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
