খাগড়াছড়িতে এবার ৬১ টি পূজা মণ্ডপে হবে আয়োজন

সারা দেশের মতো খাগড়াছড়িতেও শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। খাগড়াছড়ি নয়টি উপজেলায় এবার ৬১ টি পূজা মণ্ডপে হবে আয়োজন। অধিকাংশ মন্দিরে শেষ হয়েছে প্রতিমা রংয়ের কাজ। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের রয়েছে বিশেষ নজরদারি। প্রতিটি মণ্ডপে থাকবে মোবাইল টিম এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে।

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। নানান জাতিগোষ্ঠীর আর সম্প্রদায়ের বসবাস এখানে। প্রত্যেক ধর্মের উৎসব পালন হয় ভিন্ন আমেজে। বিশেষ করে বড় ধর্মীয় উৎসব গুলোতে মিলন মেলা হয় সব সম্প্রদায়ের লোকের। এবারও দুর্গাপূজায় প্রচুর লোকের সমাগম হবে বলে আশা করছেন সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকেরা।

পূজা আয়োজকরা বলেছেন ইতোমধ্যে তারা পূজার প্রায় সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেছেন। কয়েকটি প্রতিমা বাদে অধিকাংশ প্রতিমার রংয়ের কাজও শেষ। চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি অশোক মজুমদার  জানান, সনাতন ধর্মালম্বীরা প্রতিবছরের মতো এবারও  মায়ের আগমনের অপেক্ষায় আছেন। সবার মঙ্গল কামনায় এই দেশে সুখে শান্তিতে বসবাস করার প্রার্থনা করা হবে মায়ের কাছে। আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে সোর্হাদ্যপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করেন ।

এ দিকে জেলা সদরে পূজামণ্ডপে গুলোর প্রস্তুতির কাজ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান ও পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল। এ সময় তারা পূজা উদযাপন কমিটির সাথে মতবিনিময়সহ পূজার সার্বিক প্রস্তুতি সর্ম্পকে খোঁজখবর নেন।

পূজামণ্ডপে পরিদর্শন কালে জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন , সুষ্ঠুভাবে পূজা আয়োজনে সব রকমের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সভা করে সংশ্লিষ্ট দফতর সমূহকে  প্রয়োজনীয় দিক নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে, কাজ করছে মনিটরিং টিম। সম্প্রীতি বজায় রেখে পূজার সকল আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার ৬১ টি পূজামণ্ডপে জন্য ৩১ টন খাদ্য শষ্য, সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি সদর জোন থেকে ছয় লাখ ১০ হাজার টাকা ও হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে এক লাখ ৫২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

অপর দিকে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, খাগড়াছড়িতে শারদীয় এ দুর্গাপূজা যেন সবাই নিরাপদ ভাবে উদযাপন করতে পারে এ জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  নয়টি উপজেলার ৬১ টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৩৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ , ৬টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রশাসন ও সবার সহযোগিতায় এবারের পূজা সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা সনাতন ধর্মালম্বীদের।

 

এনএএন টিভি / বিপ্লব তালুকদার

Share this news as a Photo Card