কুষ্টিয়ার মিরপুরে স্বল্প জায়গায় অধিক ফলনের আশায় বস্তায় আদা চাষে ভাগ্য বদলের চেষ্টা

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা গ্রামে বস্তায় আদা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন এর পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে আব্দুর রহমান সোহাগ বারি – ২ জাতের আদা চাষ শুরু করে।

শনিবার ২৬ এপ্রিল দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় কৃষকেরা আদা রোপনের জন্য অনাবাদি জমি আবাদের জন্য তৈরি করছেন। অল্প খরচ ও সীমিত স্থানে অধিক লাভের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন তারা। কৃষি উদ্যোক্তা সোহাগ জানান তিনি ৭ হাজার বস্তা আদা চাষের জন্য সম্পন্ন রুপে প্রস্তুত করেছেন। বস্তায় আদা চাষে সাধারণত প্রতি বস্তায় ২০ থেকে ২৫ কেজি মাটি জৈব সার ও সামান্য রাসায়নিক সার মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয়। তিনি আরো বলেন ৭ ফিট চওড়া জমিতে বেড তৈরি করতে হয় মাঝে ৫ ফিট ফাঁকা জায়গা রাখতে হয়। এরূপ সারি সারি বস্তাগুলো সাজিয়ে রাখতে হয়। ৫ ফিট ফাঁকা জায়গায় ক্যানেলের মতো করে খনন করে রাখতে হবে যেন বৃষ্টির সময় নালা দিয়ে পানি বের হয়ে যেতে পারে। প্রতি বস্তায় ৩০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হয় এবং ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত আদা উৎপাদন সম্ভব। বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষিতে অনাবাদি পতিত ও বাগানের মধ্যে বস্তায় আদা চাষা সমন্বিত কৃষি ইউনিটের একটি খাত। কৃষি খাতের আওতায় হাইব্রিড বারি-২ জাতের আদা চাষে কৃষকদের বিনামূল্যে আদা বীজ, বস্তা, আর্থিক সহায়তা ছাড়াও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে মিরপুর কৃষি অফিসার। কৃষি বিভাগ বলছেন, আধুনিক সময়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক পন্থায় কৃষকরা একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানোর চেষ্টা করছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় মিরপুরের কয়েক জায়গায় বস্তায় আদা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন এই এলাকার কৃষকেরা।

এনএএন টিভি / মোঃ মুনজুরুল ইসলাম