বায়ুদূষণের ক্ষুদ্র ধূলিকণা মস্তিষ্কে বিষাক্ত প্রোটিনের দলা তৈরি করে। এই দলাগুলো স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে এবং তা থেকে দেখা দেয় লুই বডি ডিমেনশিয়া। এটা আলঝেইমার ও ভাসকুলার ডিমেনশিয়ার পর তৃতীয় সর্বাধিক সাধারণ স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগ।
গবেষণায় ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালানো হয়। দেখা যায়, নিয়মিত PM2.5 দূষণে সাধারণ ইঁদুরের মস্তিষ্ক ছোট হয়ে যায় এবং তাদের স্মৃতিশক্তি নষ্ট হতে শুরু করে। তবে যেসব ইঁদুরকে জিনগতভাবে পরিবর্তন করে আলফা-সিনিউক্লিন উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছিল, তারা তুলনামূলকভাবে প্রভাবমুক্ত থাকে।
গবেষকরা বলছেন, বয়স বা জিনগত কারণের মতো নয়, বায়ুদূষণ একটি পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি। অর্থাৎ, বায়ুদূষণ কমানো গেলে এ ধরনের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। তাই শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, দাবানল মোকাবিলা এবং গৃহে কাঠ পোড়ানো কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজিস্ট ড. শিয়াওবো মাও বলেন, পরিষ্কার বাতাসের নীতি আসলে মস্তিষ্ক সুরক্ষার নীতি। গবেষক টেড ডসনের মতে, বায়ুদূষণ লুই বডি ডিমেনশিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে, তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
