নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুনুর রশিদ খান এর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড সংসদ। রোববার সকালে নরসিংদীর শিবপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে জগড়িতদেরকে অতি দ্রুত চিহ্ন করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি ও তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানান বক্তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মহসিন নাজির,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব সামসুল আলম রাখিল, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বুলু মাষ্টার, ডেপুটি কমান্ডার মোতালিব খান, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা এর নেতৃবৃন্দরা।
শিবপুর থানা পুলিশ,গোয়েন্দা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ রোববার দিবাগত রাতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এই ৪ জনকে আটক করেন। জানাগেছে, গত শনিবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে নরসিংদীর শিবপুর থানা সংলগ্ন হারুনুর রশিদ খান এর নিজ বাসার ড্রইং রুমে ঢুকে শিবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খানকে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা।
গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন খান নিপুনের নেতৃত্বে গত শনিবার সকাল ৯ টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ইটাখোলায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় নরসিংদীর মাধবদী থেকে মরজাল পর্যন্ত শত শত যাত্রী বাহী দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন গণ পরিবহন আটক পড়ে যাত্রীরা দূর্ভোগের শিকার হন।
খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে নরসিংদী জেলা প্রশাসক আবু নঈম মোহাম্মদ মারুফ খান ও পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম ইটাখোলায় যান। নরসিংদী জেলা প্রশাসক আবু নঈম মোহাম্মদ মারুফ খান ঘটনাটি জানার পর থেকে আমি পুলিশ সুপার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করি।
ইটাখোলায় বিক্ষোব্ধ জনতা টায়ারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপারকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল ইটাখোলায় পৌছে বিক্ষোব্ধ জনতার দাবীর প্রেক্ষিতে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যেমে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানালে তারা দুপুর ২টায় অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন শিবপুর উপজেলার পুটিয়া বাজারের ইজারা নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আরিফ উপজেলা চেয়ারম্যান হারুণ অর রশিদ খানের উপর ক্ষুব্দ ছিলো। এরই জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
নরসিংদীর শিবপুরে বাড়িতে ঢুকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুনুর রশিদ খানকে গুলি করার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শিবপুর থানা পুলিশ,গোয়েন্দা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ রোববার দিবাগত রাতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এই ৪ জনকে আটক করেন। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবপুর থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি। এদিকে প্রবীন এই রাজনিতিকের উপর সন্ত্রাসী হামলায় পর থেকে পুরো উপজেলায় থম থমে অবস্থা বিরাজ করছেন।
আওয়ামীলীগ নেতা সহ সুশিল সমাজের লোকজন চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছেন । সন্দেহভাজন আটককৃতরা হলো ফরিদ,সাব্বির,সুমিত মোল্লা ও রানা। শিবপুর থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, ঘটনার পর থেকে শিবপুর থানা পুলিশ,গোয়েন্দা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ সহ আইন শৃংখল্যা বাহিনির সদস্যদের যৌথ প্রচেষ্টায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। এই পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। আমরা আহত উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি তিনি সুস্থ হয়ে অভিযোগ দায়ের করবেন। তাছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন।
সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন শিবপুর উপজেলার পুটিয়া বাজারের ইজারা নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আরিফ উপজেলা চেয়ারম্যান হারুণ অর রশিদ খানের উপর ক্ষুব্দ ছিলো। এরই জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ভূঞা রাখিল এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহসীন নাজির বলেন, আমি কখনোই মহত্যার রাজনীতিকে সমর্থন করি না। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তারা ছাড় পাবেনা। শিবপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ২০১৪ সালের মাহিন হত্যাকান্ড এবং ২০১৮ সালে মিলন হত্যাকান্ড ঘটিয়ে যারা আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের ছত্র ছায়ায় আজকের এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মূলত ওই দুটি হত্যাকান্ড ও আজক্রে এই ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুণ অর রশিদ খানকে গুলি করেছে। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিনের অসীম দয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন।
নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন বলেন, এ ঘটনাটিকে আমি দলের অভ্যন্তরীন কোন্দল বলে মনে করিনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়না। তিনি আরো বলেন ১৯৮৬ সালে তার বড় ভাই তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল খান কিরণকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিএন্ডবি ব্রিজে গুলি করে হত্যা করে। আমি মনে করি তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বশির আহম্মেদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি :
