বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে বিয়ে না করে প্রেমিকাকে মামার বাড়িতে রেখে প্রেমিক পালিয়ে যাওয়ায় আত্মহত্যা করেছে প্রেমিকা।
রবিবার ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার কেয়ামুল্লাহ গ্রামের মঞ্জু হাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মঞ্জু হাজিসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের নাম লিজা আক্তার। সে চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফ্যাসন গ্রামের ইয়াসিনের মেয়ে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় লালমোহন উপজেলার ধলীগৌর নগর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের করিমগঞ্জ গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. সিয়াম (২১) এর সাথে তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীর পাড়ে ঘুরতে আসে।
স্থানীয়রা জানায়, চরফ্যাশন উপজেলার লিজা (২০) নামের এক তরুণী লালমোহন উপজেলার সিয়াম (২২) নামের এক তরুণের সাথে গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) তজুমদ্দিন চলে আসে। ওই দিন তারা তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পাড়ে ঘোরঘুরি করার সময় স্থানীয়রা তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং এক পর্যায়ে দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই দিনই পুলিশ দুজনকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিশু হাওলাদারের জিম্মায় দেয়। চেয়ারম্যান আবার প্রেমিক সিয়ামের মামা মঞ্জু ইসলামের হাতে তুলে দেন। মঞ্জু ইসলাম তাদের দুজনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন শনিবার সিয়াম পালিয়ে যায়। এদিকে মঞ্জু হাজি মেয়ের বাড়িতে খবর দিলেও মেয়েকে নিতে স্বজনরা কেউ আসেনি। পরে মঞ্জু হাজির বাড়ি থেকে মেয়েটিকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে রবিবার সকালে মেয়েটি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে খবর পেয়ে তজুমদ্দিন থানার পুলিশ মঞ্জু হাজির ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করে।
তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল হক জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্লুইসগেট এলাকায় ওই ছেলে ও মেয়ের সাথে স্থানীয় লোকজনের হট্টগোল বাঁধে। এসময় পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসে। পরে উভয়কে আত্মীয়ের জিম্মায় দেয়া হয়। জানাগেছে মেয়ে বিয়ের দাবি করলে ছেলে পালিয়ে গেলে অভিমান করে মেয়েটি হাজী মঞ্জুরুল আলমের বাসায় বসে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে থানায় আনা হয়েছে।

Comments are closed.