মুন্সিগঞ্জে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে সন্ধান মিলেছে হাজার বছরের প্রাচীন কালো কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তির।
দুস্প্রাপ্য প্রাচীন এ কষ্টিপাথরের ওজন প্রায় ১শ কেজি।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রাচীন বিক্রমপুরে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মালম্বীরা পূজা-অর্চনা বা স্বর্ণের মিশ্রণ পরীক্ষার জন্য এক সময় মূর্তিটি ব্যবহার করতেন।

গতকাল শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়নের পশ্চিম বলই এলাকায়
স্থানীয় একটি কবরস্থানের রাস্তা নির্মাণের জন্য পাশের কৃষি জমিতে মাটি কাটতে গিয়ে প্রথমে মূর্তিটির একটি অংশ দেখতে পায় স্থানীয়রা।
পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি হলে মাটি খুঁড়ে বের করে নিয়ে আসা হয় একে একে আরও চারটি অংশ।
পরে সেটি স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মূর্তিটি সনাতন ধর্মালম্বীদের বিষ্ণু দেবতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় কবরস্থানের রাস্তার জন্য আব্দুল হক শেখ নামের এক ব্যক্তি ভেকু দিয়ে নিচু জমির মাটি কাটছিলেন।

কিছুক্ষণ মাটি খুড়তেই ভেকুতে কালো পাথরের মূর্তিটির একটি অংশ উঠে আসে। পরে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় মূর্তির পুরো অংশটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া কষ্টিপাথরে মূর্তিটি প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন নিদর্শন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, সেন বংশের শাসনামলে মুন্সিগঞ্জ তথা বিক্রমপুরে গড়ে উঠেছিল অনেক মন্দির, সেন বংশের শাসক রাজা বল্লাল সেনের আমলের প্রাচীন নিদর্শন এটি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানা আফরিন গণমাধ্যমকে বলেন,
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রাচীন কষ্টিপাথরের প্রত্ননিদর্শন বিষ্ণুদেবের মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
৫৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২৪ ইঞ্চি প্রস্থের মূর্তিটি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রথমে দুই টুকরো ও পরে আরও দুই টুকরো অংশ উদ্ধার করা হয়, তবে ছোট একটি অংশ এখনও পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি জেলা প্রশাসকের ট্রেজারি শাখায় জমা করা হয়েছে।
আনুমানিক ১০০ কেজি ওজনের মূর্তিটির ঐতিহাসিক মূল্য অমূল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, এটি মুন্সিগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের প্রাচীন ইতিহাসের অংশ।
আরও পড়ুন:
