সাবেক সেনা সদস্যকে কুপিয়ে জখম, মৃত্যুর সাথে লড়ছেন সিএমএইচে

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া এলাকায় সাবেক সেনা সদস্য নাজমুল ইসলাম সুমনকে শরীরের ২৪ স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখ ম করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও তার অনুসারীরা।

ঘটনার নয়দিন পার হয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামিরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহীর একটি রেস্তোরায় সুমনের বাবা নজরুল ইসলাম এহিয়া সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,

চাঁদার দাবিতে গত ৯ জুলাই বিকেলে প্রকাশ্য দিবালোকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলে সুমনকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে শরীরের ২৪ জায়গায় গুরুতর জখম করা হয়।

সুমনের দুই হাত ও দুই পায়ের রগ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়া হয়। সে মারাত্মকভাবে জখম হয়ে বর্তমানে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

তিনি আরও বলেন,

ঘটনার পরে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে পুঠিয়া থানায় মামলা করা হয়।

মামলাটি রাজশাহী জেলা ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মামলায় তিনজন আসামি গ্রেপ্তারও হয়।

কিন্তু প্রধান আসামি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদসহ বাকী আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 

এখন আমার পরিবার নিয়ে প্রতিটা মুহুর্তে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। আসামিরা প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছে।

সুমনের নাবালক বাচ্চারা স্কুলে যেতে ভয় পায়। আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ঘটনায় জড়িত সকল আসামিদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায় পরিবারটি।

এ সময় সুমনের মা ও চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমনের মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (পরিদর্শক) ওমর ফারুক ডিবিসি নিউজকে বলেন,

মামলার মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য চারদিন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছি। আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে যদি আসামির অবস্থান সর্ম্পকে কোন তথ্য থাকে,

তাহলে আমাদের জানালে আমরা আসামি গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসবো। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card